কলকাতা, ১৫ মেঃ রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে জল্পনা। সেই আবহেই দিল্লিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সারলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সূত্রের খবর, বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বানছাল-এর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি আরএসএস নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেও দিল্লিতে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে মন্ত্রিসভা গঠন ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্য, আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব এবং সংগঠনের বিশ্বস্ত মুখদের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই এগোচ্ছে গেরুয়া শিবির। শুক্রবার কলকাতায় আসছেন সুনীল বনসল। সূত্রের দাবি, কলকাতাতেই হতে চলেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, যেখানে মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যদের নাম প্রায় চূড়ান্ত হতে পারে। বিজেপি সূত্রে ইঙ্গিত, সম্ভাব্য তালিকায় সর্বাধিক ৩০ জনের নাম থাকতে পারে।
কে কোন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর পাবেন, কার রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়বে, আর শেষ মুহূর্তে কার নাম বাদ পড়তে পারে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিজেপির অন্দরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দিল্লি ও কলকাতার মধ্যে ধারাবাহিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব।
এদিকে, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ টানতে সক্রিয় হয়েছে নতুন সরকার। সূত্রের খবর, উৎপাদন ও ভারী শিল্প ক্ষেত্রে বিনিয়োগ নিয়ে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র সরকার পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের পর শিল্প প্রকল্পে দ্রুত গতি আনতে চায় বলেও জানা গিয়েছে। পাশাপাশি নতুন জমিনীতির বিষয়েও ভাবনা শুরু হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।” তাঁর দাবি, রাজনৈতিক হিংসা ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ তৈরি করাই শিল্পায়নের মূল শর্ত। একইসঙ্গে তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং রাজ্যের বাইরে চলে যাওয়া মেধাবীদের ফিরিয়ে আনা।
অন্যদিকে, জুন মাসে সরকারি উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের ঘোষণাও করেছে বিজেপি। শমীকের দাবি, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন পৃথক পশ্চিমবঙ্গ গঠনের প্রস্তাব পাশ হওয়ার দিনটিকেই প্রকৃত প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, “মানুষকে প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে। বিকৃত ইতিহাস দেশের বড় সমস্যা।”
এই প্রসঙ্গে তিনি শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়, মেঘনাদ সাহা এবং জ্যোতি বসু-সহ একাধিক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করে বলেন, পৃথক পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পক্ষে তাঁদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপির দাবি, এতদিন দলীয়ভাবে পালন করা হলেও এবার রাজ্য সরকারের তরফেও আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিনটি উদযাপন করা হবে।





