কলকাতা, ৩১ আগস্টঃ জমি দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের আগাম জামিনের শুনানি ঘিরে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে উঠে এল একের পর এক বিস্ফোরক দাবি। তদন্তের সূত্র ধরে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামও আলোচনায় আসে। রাজ্যের দাবি, একটি রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্টে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেনের হদিস মিলেছে। সেই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের প্রায় ৩০ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। যদিও কোন রাজনৈতিক দলের কথা বলা হচ্ছে, তা আদালতে স্পষ্ট করা হয়নি।
লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস নামটি অবশ্য রাজনৈতিক মহলে আলাদা তাৎপর্য বহন করে। সংস্থাটির সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ রয়েছে। ফলে সুমিতকে ঘিরে চলা তদন্তের পরিধি কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এ দিন রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তাঁর দাবি, তদন্তে এখনও পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা ‘হিমশৈলের চূড়া’। সুমিতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে বলে আদালতকে জানান তিনি।
তবে তদন্তের গতি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, কলকাতা হাই কোর্টের একাধিক বিচারপতি আগে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসকে ঘিরে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ইডির তদন্তে আদৌ আগ্রহ ছিল কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছিল বলে আদালত মনে করিয়ে দেয়।
অন্য দিকে, সুমিতের আইনজীবীর দাবি, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ হলেও তাঁর মক্কেলের সই করা কোনও নথি দেখানো হয়নি। লেনদেন নিয়েও নির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হয়নি বলে দাবি তাঁর।
এদিন সুমিতের রক্ষাকবচ আগামী সোমবার পর্যন্ত বহাল রেখেছে আদালত। পাশাপাশি, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের যাবতীয় লিখিত নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফলে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন একটাই জায়গায় ‘হিমশৈলের চূড়া’ বলেই যে তদন্তের কথা আদালতে উঠল, তার নীচে আসলে কতটা গভীর জল?





