কলকাতা, ২৫ সেপ্টেম্বরঃ জন্ম ১৯৬৫ বা ১৯৬৬ সালে। অথচ নির্বাচনী হলফনামায় মাধ্যমিক পাশের সাল লেখা ১৯৬৫। নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হলফনামার এই তথ্যগত অসঙ্গতি নিয়েই এবার কলকাতা হাই কোর্টে মামলা। শুক্রবার মামলার শুনানি শেষ হলেও আপাতত রায় ঘোষণা স্থগিত রেখেছেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে এখন নজর আদালতের দিকে।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে ভবানীপুর থেকেও জেতায় নন্দীগ্রাম আসনটি ছাড়েন তিনি। সেই শূন্য আসনেই এ বার বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি মৃত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা। তাঁর মনোনয়ন ঘিরে কংগ্রেসের আপত্তি থেকেই শুরু আইনি লড়াই।
কংগ্রেসের অভিযোগ, হাসিরানি হলফনামায় নিজের বয়স ৬০ বছরের বেশি বলে উল্লেখ করেছেন। সেই হিসাব ধরলে তাঁর জন্ম ১৯৬৫-৬৬ সালের আশপাশে। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাশের তথ্য দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, তথ্য দু’টি পাশাপাশি রাখলে সময়ের হিসাবে তৈরি হচ্ছে গুরুতর অসঙ্গতি। এই কারণেই কংগ্রেসের দাবি, হয় বয়সের তথ্য, নয়তো শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যের মধ্যে কোনও একটি ভুল।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে হাসিরানির প্রার্থিপদ বাতিলের আবেদন জানায় কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, নির্বাচনী হলফনামায় ভুল তথ্য থাকলে তার প্রভাব প্রার্থিপদের বৈধতার উপর পড়তে পারে। মামলাটি ওঠার পর আদালতও জানতে চেয়েছিল, আবেদনকারীরা ঠিক কী প্রতিকার চাইছেন। কংগ্রেসের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়, তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হলে প্রার্থিপদ বাতিল করা হোক।
তবে বিজেপির পাল্টা বক্তব্যও রয়েছে। দলের দাবি, বয়সের ক্ষেত্রে কোনও অসঙ্গতি নেই; ১৯৬৫ সালের উল্লেখটি মূলত টাইপের ভুল। হাসিরানির পড়াশোনা ১৯৮০ সালের দিকে এমন দাবিও বিজেপির তরফে করা হয়েছে। হাসিরানি নিজেও জানিয়েছেন, আদালতের উপর তাঁর আস্থা রয়েছে এবং আইন যে পথে চলবে, তিনি তা মেনে নেবেন।
এখন তাই প্রশ্ন একটাই হলফনামার তথ্যগত গরমিল কি শুধুই সংশোধনযোগ্য ভুল, নাকি তার আইনি পরিণতি আরও গুরুতর? শুক্রবার দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষ হয়েছে। হাসিরানির প্রার্থিপদ বহাল থাকবে, নাকি আদালতের রায়ে তৈরি হবে নতুন জট তার উত্তর মিলবে হাই কোর্টের রায়ের পরেই।





