খবরিয়া ২৪ নিউজ ডেস্ক, ৫ জানুয়ারিঃ “ধর্মযুদ্ধে দ্রষ্টা ও চালিকাশক্তি: মহাভারতের মূল নায়ক শ্রীকৃষ্ণ”, “অর্জুনের সারথি থেকে স্বয়ং ভগবান: মহাকাব্যে কৃষ্ণের বহুমুখী ভূমিকা”, শ্রীকৃষ্ণের অপরিহার্য অবদান” মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণের ভূমিকা শুধু একজন বন্ধু বা আত্মীয়ের নয়, তিনি ছিলেন ধর্মের রক্ষক, বিষ্ণুর অবতার, যিনি পাণ্ডবদের পথপ্রদর্শক এবং অর্জুনের সারথি হিসেবে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অধর্ম দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হল অর্জুনকে দেওয়া ভাগবতগীতা, যেখানে কর্ম ও জীবনের গভীর দার্শনিক শিক্ষা রয়েছে, যা তাঁকে মহাভারতের কেন্দ্রীয় চরিত্র করে তুলেছে।
এই মহাভারতে কৃষ্ণের বিভিন্ন ভূমিকা: ধর্ম ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা: তিনি অধর্মকে বিনাশ করে ধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে এসেছিলেন, যা পাণ্ডবদের সমর্থন করার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।
অর্জুনের সারথি ও পথপ্রদর্শক: কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি অর্জুনের রথ চালনা করেন এবং অর্জুনের দ্বিধা দূর করতে ভগবদ্গীতার জ্ঞান দেন।
কূটনীতিবিদ ও যোদ্ধা: তিনি কেবল দার্শনিক নন, প্রয়োজনে কংস বধের মতো কাজও করেছেন এবং একজন দক্ষ কূটনীতিবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন।
ঈশ্বরের অবতার: তাঁকে বিষ্ণুর অবতার হিসেবে দেখা হয়, যিনি মহাবিশ্বের সবকিছুতেই বিদ্যমান এবং যার কোনও আদি বা অন্ত নেই।
শান্তিদূত: কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে শ্রীকৃষ্ণ পাণ্ডবদের পক্ষ থেকে হস্তিনাপুরে শান্তির প্রস্তাব নিয়ে যান। তিনি কেবল পাঁচটি গ্রাম চেয়েছিলেন যাতে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এড়ানো যায়, কিন্তু দুর্যোধন তা প্রত্যাখ্যান করেন।
অর্জুনের সারথি ও গীতার জ্ঞান: যুদ্ধের ময়দানে অর্জুন যখন আপনজনদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে দ্বিধাগ্রস্ত হন, তখন শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সারথি হিসেবে ‘শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা’র অমূল্য জ্ঞান প্রদান করেন। তিনি অর্জুনকে তাঁর ধর্মের (কর্তব্য) পথে অবিচল থাকতে উদ্বুদ্ধ করেন।
কৌশলী উপদেষ্টা: শ্রীকৃষ্ণ নিজে সরাসরি অস্ত্র ধরবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। তবে তাঁর প্রখর বুদ্ধি ও রণকৌশল পাণ্ডবদের জয়ের প্রধান কারণ ছিল। ভীষ্ম, দ্রোণাচার্য এবং কর্ণের মতো অপরাজেয় যোদ্ধাদের পরাজিত করার পথ তিনিই দেখিয়েছিলেন।
দ্রৌপদীর সম্মান রক্ষা: কৌরব সভায় দুঃশাসন যখন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করার চেষ্টা করে, তখন শ্রীকৃষ্ণ অলৌকিকভাবে অসীম বস্ত্র প্রদান করে তাঁর সম্মান রক্ষা করেন।
উল্লেখযোগ্য ঘটনা: কংস বধ ও দ্বারকা প্রতিষ্ঠা: তিনি মথুরায় দুষ্ট রাজা কংসকে হত্যা করে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন এবং দ্বারকা নগরী প্রতিষ্ঠা করেন।
গোবর্ধন ধারণ ও বিশ্বরূপ দর্শন: তিনি গোবর্ধন পর্বত ধারণ করে গ্রামকে রক্ষা করেন এবং অর্জুনকে তাঁর বিশ্বরূপ দেখান।
বিদুরের কলাপাতার ভোজ: তিনি বিদুরের সাধারণ ভোজকেও অমৃত সমান করে তুলেছিলেন, যা ভক্তিতে সমতার উদাহরণ।
কৃষ্ণের শিক্ষা: নিষ্কাম কর্ম: তিনি অর্জুনকে নিষ্কাম কর্মের শিক্ষা দেন, অর্থাৎ ফল কামনা না করে নিজের কর্তব্য পালন করা।
নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ: তাঁর শিক্ষা নৈতিকতা,(কর্তব্য) এবং দায়িত্ববোধের উপর জোর দেয়।
বন্ধুত্ব ও সেবার আদর্শ: তিনি পাণ্ডবদের প্রতি তাঁর অবিচল আনুগত্য এবং মানুষের সেবার মাধ্যমে বৃহত্তর কল্যাণে অবদান রাখার শিক্ষা দেন।
শ্রীকৃষ্ণের কাহিনী মহাভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা শুধুমাত্র একটি মহাকাব্য নয়, বরং ভক্তি, জ্ঞান এবং কর্মের এক গভীর দর্শনকে তুলে ধরে।







