খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১১ মার্চঃ প্রায় এক যুগ পর আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি। এতদিন গোপন থাকা বিচারপতি শ্যামল সেন কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের এই নির্দেশের ফলে বহুদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা আর্থিক হিসেব, নথি এবং কমিশনের পর্যবেক্ষণ সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর গোটা রাজ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শ্যামল সেন-এর নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করে। রাজ্য সরকারের ঘোষিত ৫০০ কোটি টাকার তহবিল থেকে ওই কমিশন প্রায় ২২৫ কোটি টাকা আমানতকারীদের মধ্যে ফেরত দেয়। কমিশনের কাজ শেষ হওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ ও সমস্ত আর্থিক হিসেব রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয় এবং তার একটি প্রতিলিপি আদালতের কাছেও পাঠানো হয়। তবে এতদিন সেই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি।
রিপোর্ট প্রকাশের দাবিতে আদালতে মামলা দায়ের হলে সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি উদয় কুমার-এর ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, হাই কোর্টে জমা থাকা শ্যামল সেন কমিশনের রিপোর্ট মামলার সব পক্ষকে সরবরাহ করতে হবে। ফলে কমিশনের সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণ এখন প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিন শুনানির সময় চিটফান্ড সংক্রান্ত মামলাগুলিতে সিবিআই এবং ইডি-র আইনজীবীদের অনুপস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ বলেন, এই মামলাগুলির তদন্ত এখন মূলত এই দুই সংস্থার হাতেই রয়েছে। অথচ আদালতের নজরে এসেছে, প্রায় ৯০ শতাংশ মামলায় তাঁদের আইনজীবীরা হাজির থাকছেন না।
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতেও যদি একই পরিস্থিতি চলতে থাকে তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে শ্যামল সেন কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে তার রাজনৈতিক প্রভাবও পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





