নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: তারাতলার হাই রোডে বুধবার দুপুরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নির্মীয়মাণ একটি গুদামের ছাদ আচমকা ভেঙে পড়ে চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা এলাকায়। প্রাথমিক আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নীচে ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিক আটকে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, ঘটনাস্থল থেকেই কয়েক জনকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্তত দু’জনের মৃত্যুর আশঙ্কাও সামনে আসছে। যদিও রাত পর্যন্ত সরকারি ভাবে হতাহত বা আটকে পড়া শ্রমিকের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তারাতলা এলাকার ওই গুদামে এদিন নির্মাণকাজ চলছিল। দুপুরের দিকে বেশ কয়েক জন শ্রমিক ভিতরে কাজ করছিলেন। সেই সময় আচমকা বিকট শব্দে ছাদের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে লোহার বিম, কংক্রিটের চাঙড় এবং নির্মাণসামগ্রীর স্তূপ চাপা পড়ে যায় ভিতরে কাজ করা শ্রমিকদের উপর। ঘটনাস্থলে উপস্থিত শ্রমিক ও স্থানীয়দের দাবি, ধসের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অনেকে বেরিয়ে আসার সুযোগই পাননি।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন, কলকাতা পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে শুরু হয় জোর তৎপরতা। বিশাল লোহার কাঠামো এবং কংক্রিটের চাপা অংশ কাটতে ভারী যন্ত্রও আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের ভিতরে এখনও বহু শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন।
আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও হাসপাতাল সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা প্রশাসনের একাংশের। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরকারি ভাবে হতাহতের নির্দিষ্ট হিসেব সামনে আনা হয়নি।
এই দুর্ঘটনা ঘিরে একাধিক প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। নির্মীয়মাণ গুদামে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, শ্রমিকদের সুরক্ষা বিধি মানা হয়েছিল কি না, ছাদের নির্মাণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, নির্মাণকাজ চলাকালীন ছাদের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া বা কাঠামোগত দুর্বলতার জেরেই এই বিপর্যয় ঘটতে পারে।
রাত পর্যন্ত উদ্ধারকাজ জারি ছিল। ধ্বংসস্তূপের নীচে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তারাতলার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে শ্রমিক মহল থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।





