নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: কেউ লিখছেন কবিতা, কেউ গল্প। কেউ আবার নিঃশব্দে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজের জন্য কাজ করে চলেছেন। তাঁদের অনেকের কাজ হয়তো আলোচনার কেন্দ্রে আসে না। কিন্তু সেই অবদানই সমাজকে একটু একটু করে সমৃদ্ধ করে। এমনই প্রতিভা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি দিতে শিলিগুড়িতে শুরু হচ্ছে নতুন সম্মাননা ‘পারিজাত সম্মান’।
সাহিত্য, সমাজসেবা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য প্রতি বছর একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এই সম্মান দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে আয়োজক কমিটি। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সেবক রোডের উত্তরবঙ্গ মারোয়ারি ভবনে একটি বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানেই প্রথম বার তুলে দেওয়া হবে ‘পারিজাত সম্মান’।
আয়োজকদের কথায়, কোনও কাজের প্রকৃত মূল্য শুধু তার প্রচারে নয়, তার প্রভাবেও। সেই ভাবনা থেকেই এই সম্মাননা চালুর সিদ্ধান্ত। সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্যপ্রেমী, সমাজসেবী এবং বিভিন্ন সংগঠনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে হবে প্রথম বছরের অনুষ্ঠান। কমিটির সদস্যদের নির্বাচনের ভিত্তিতেই এ বছর একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মানিত করা হবে।
শুধু একটি পুরস্কার নয়, আগামী দিনে এই সম্মানকে একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রতি বছর সাহিত্য ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা কোনও একজন ব্যক্তির হাতে ‘পারিজাত সম্মান’ তুলে দেওয়া হবে। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও যাঁরা নিজেদের কাজের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছেন, তাঁদের অবদানকে সম্মানের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
আয়োজকদের মতে, নতুন প্রজন্মের কাছে এমন উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ পুরস্কার বা সম্মান শুধু একজন মানুষকে উৎসাহিত করে না, তাঁর কাজের সঙ্গে যুক্ত অন্যদেরও এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। বিশেষ করে সাহিত্য ও সমাজসেবার মতো ক্ষেত্র, যেখানে কাজের স্বীকৃতি অনেক সময় দেরিতে আসে, সেখানে এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
‘পারিজাত’ নামটিও যেন সেই ভাবনারই প্রতীক নিঃশব্দে সৌন্দর্য ছড়িয়ে দেওয়া। তাই প্রথম বছরেই এই সম্মান ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মহলে। ৬ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠান থেকেই শুরু হবে সেই যাত্রা। তারপর প্রতি বছর নতুন কোনও প্রতিভা, নতুন কোনও অবদান উঠে আসবে এই সম্মানের মঞ্চে এমনটাই আশা আয়োজকদের।





