মুর্শিদাবাদ, ৭ ডিসেম্বরঃ মুর্শিদাবাদে এবার এক লক্ষ মানুষের সম্মিলিত কণ্ঠে কোরান পাঠের আয়োজন করতে চলেছেন ভরতপুরের তৃণমূল-বিধায়ক-থেকে-বিতর্কের মধ্যমণি হুমায়ুন কবীর। শনিবার বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের পরই আগামী ফেব্রুয়ারিতে বৃহত্তর ইসলামিক ধর্মীয় সমাবেশের ঘোষণা করে ফের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন তিনি। তাঁর ঘোষণা শুধু কোরান পাঠ নয়, এই বিশাল সমাবেশে উপস্থিত মানুষদের জন্য থাকবে আপ্যায়নের পূর্ণ ব্যবস্থা।
হুমায়ুন কবীর জানান, প্রায় এক লক্ষ হাফেজকে নিয়ে একটি বিশাল প্যান্ডেলে দিনভর কোরান পাঠের পরিকল্পনা রয়েছে। মুর্শিদাবাদের উপযুক্ত স্থান চিহ্নিত হলেই শুরু হবে প্রস্তুতি। তাঁর কথায়, “সনাতনী ভাই-বোনেরা গীতাপাঠ করেন, সেটাই তাঁদের ধর্মীয় অধিকার। একই ভাবে মুসলমানদের রাজনৈতিক ভাবে শক্তিশালী করতে বৃহৎ আকারে কোরান পাঠ আয়োজন করা হবে। এক লক্ষ মানুষের সম্মিলিত কণ্ঠে কোরান পাঠ এই ভাবনাই আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করছে।”
এর আগে শনিবার বেলডাঙা–রেজিনগর এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তার মধ্যেই হয়ে গিয়েছে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠান, যা ঘিরে রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। র্যা ফ, বিশাল পুলিশবাহিনী ও অস্থায়ী ক্যাম্পের নজরদারিতে ওই অনুষ্ঠান চললেও কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন হুমায়ুনই। মসজিদ নির্মাণের অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তিনি জানান, “মসজিদ তৈরিতে টাকার কোনও সমস্যা হবে না। রাজ্যের প্রায় সব জেলা থেকেই মানুষ নিজে থেকেই টাকা দেবেন।” তাঁর আরও দাবি, একটি সংস্থা ৮০ কোটি টাকা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে, যদিও নাম প্রকাশ করতে নারাজ তিনি।
শনিবারের মঞ্চ থেকেই তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন হুমায়ুন। সংখ্যালঘু প্রার্থীর সংখ্যা কমানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “২০১১-তে মুসলিম বিধায়ক ৬৭ জন, ২০১৬-তে ৫৭, আর ২০২১-এ নেমে এল ৪৪। ৯০টি সংখ্যালঘু প্রধান আসনে মুসলিম প্রার্থীদের জেতান।”
এখন চোখ আগামী সোমবারের দিকে মুর্শিদাবাদেই নিজের নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করবেন হুমায়ুন কবীর। ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাঁর দল ২৯৪টি আসনের বহু নির্বাচনী কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে। তাঁর সাফ মন্তব্য, “২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৪-এ মমতা–শুভেন্দুর লড়াই হোক। তাঁরা সরকার চালান। আমরা বিরোধী আসনে বসে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে হিসেব কষব।” এই ঘোষণার পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে যে নয়া চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।





