দিল্লি, ২৭ জুলাইঃ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। তাই আন্দোলন হলেই পুলিশ বলপ্রয়োগ করতে পারে না। সোমবার সংসদ অভিযান-সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এমনই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। গত ২০ মে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা সংসদ অভিযানে পুলিশের লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সংবিধান স্বীকৃত অধিকার এবং তা দমনে নির্বিচারে লাঠিচার্জ গ্রহণযোগ্য নয়।
শুনানিতে আদালত পর্যবেক্ষণ করে, “শান্তিপূর্ণ ও আইন মেনে প্রতিবাদ করার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। শুধুমাত্র প্রতিবাদ হচ্ছে বলেই কোনও আন্দোলনে লাঠিচার্জ করা যায় না।” একই সঙ্গে ২০ মে-র ঘটনার তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করে আদালত। বিচারপতিদের প্রশ্ন, পুলিশের আচরণ নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। পাশাপাশি যাঁরা অভিযানে আহত হয়েছেন, সেই পুলিশকর্মীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম কেন দেওয়া হয়নি, তারও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে সরকারের কাছে।
শীর্ষ আদালত আরও জানায়, গোটা দেশের পুলিশ বাহিনীর জন্য অভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও ইউনিফর্ম সংক্রান্ত নির্দেশিকা তৈরির বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
২০ মে-র সংসদ অভিযানে ব্যাপক লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং মহিলা আন্দোলনকারীদের উপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। আবেদনকারীদের আইনজীবীদের দাবি, বহু মহিলা প্রতিবাদকারীকে লক্ষ্য করে অমানবিকভাবে মারধর করা হয়েছে। অনেক পুলিশকর্মীর গায়ে পরিচয়পত্র বা ব্যাজও ছিল না। এই অভিযোগের সমর্থনে অন্তত ১১০টি ভিডিও আদালতে পেশ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। মামলায় সিসিটিভি ফুটেজ ও বডি-ক্যামেরার রেকর্ড সংরক্ষণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আহত আন্দোলনকারীদের ক্ষতিপূরণের আবেদনও জানানো হয়েছে।
এদিকে বিহারে ছাত্র আন্দোলনের সময় এক পুলিশকর্মীকে হাতে একে-৪৭ নিয়ে মোতায়েন থাকার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ঘটনার জেরেই ওই কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বিরোধীদের অভিযোগ, আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সুপ্রিম কোর্টের সোমবারের পর্যবেক্ষণ সেই বিতর্ককেই আরও জোরালো করল।





