কলকাতা, ৬ আগস্টঃ দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার কর্মীর। বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র বিল প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। ফলে বহুদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা গ্রান্ট-ইন-এইড স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং বিভিন্ন সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলায় চলতি বছরের মার্চ মাসেই সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য অর্থের একটি অংশ তাঁদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা করা হয়েছিল। অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীরাও সেই অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পেয়েছেন। কিন্তু সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি বেতন না পাওয়া অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিতই ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে কোনও অগ্রগতি হয়নি। এবার সেই জট কাটতে শুরু করেছে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
অর্থ দপ্তর সূত্রের খবর, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অধীনস্থ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বেতন ও প্রশাসনিক পোর্টালে আপাতত অন্য কোনও আর্থিক বকেয়ার বিল আপলোড না করতে। পরিবর্তে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বকেয়া ডিএ-র বিল প্রস্তুত ও জমা দেওয়ার কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের আওতায় থাকছেন সরকার অনুমোদিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মী, বিভিন্ন বিধিবদ্ধ বোর্ড, কর্পোরেশন এবং অন্যান্য অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। তাঁদের ক্ষেত্রে ‘রোপা ২০০৯’ অনুযায়ী দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘভাতার অর্থ পরিশোধের প্রস্তুতি চলছে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, প্রয়োজনীয় বিল তৈরি হয়ে অর্থ দপ্তরে পৌঁছলে দ্রুত অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াও শুরু হবে। যদিও কবে থেকে কর্মীদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছতে শুরু করবে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও দিনক্ষণ জানানো হয়নি। তবু দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর রাজ্যের হাজার হাজার সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কর্মীর কাছে এই পদক্ষেপ স্বস্তির বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।





