নয়াদিল্লী, ২৫ সেপ্টেম্বরঃ তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদের সাংসদপদ নিয়ে টানাপড়েন এবার আরও তীব্র। অযোগ্যতার দাবিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। তার মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট স্পিকার ওম বিড়লার কাছে দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা জানিয়েছে। আদালত স্পষ্ট করেছে, দলত্যাগ সংক্রান্ত মামলায় দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়।
এই পরিস্থিতিতেই নতুন করে চাপে পড়লেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ সাংসদ। স্পিকারের নোটিসের জবাব দিতে তাঁরা আরও চার সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করতে আরও সময় দরকার। কিন্তু সেই আর্জি মেনে নেওয়া হয়নি। ফলে জবাব দেওয়ার সময়সীমা নিয়ে ফের কড়া অবস্থান সামনে এল।
বিতর্কের সূত্রপাত জুনে। তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন এবং লোকসভায় পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্য ছিল, দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ তাঁদের সঙ্গে থাকায় এই দলবদল সংবিধানের দশম তফসিলের আওতায় বৈধ। অন্য দিকে তৃণমূলের দাবি, তাঁরা দলত্যাগ করেছেন এবং তাঁদের সাংসদপদ খারিজ হওয়া উচিত। এই নিয়েই স্পিকারের কাছে পৃথক পৃথক আবেদন জমা দেন অভিষেক।
এর পর আইনি লড়াই গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। ২৫ অগস্ট শীর্ষ আদালত ২০ সাংসদকে নোটিস পাঠিয়ে তাঁদের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল। আদালতে তখনই স্পষ্ট করা হয়েছিল, শুধু নোটিস দেওয়া নয়, গোটা প্রক্রিয়া যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে শেষ করাই গুরুত্বপূর্ণ।
সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে মামলার শুনানিতে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ২০২০ সালের Keisham Meghachandra Singh মামলার রায়ের কথা উল্লেখ করে জানান, দলত্যাগ সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে সাধারণত তিন মাসের মধ্যে। তিন মাস পেরিয়ে যাওয়াকে আদালত ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবেও উল্লেখ করেছে।
ফলে এখন নজর স্পিকারের পরবর্তী পদক্ষেপে। এক দিকে ২০ সাংসদের বক্তব্য, অন্য দিকে তৃণমূলের অযোগ্যতার দাবি এবং তার উপর সুপ্রিম কোর্টের দ্রুত নিষ্পত্তির প্রত্যাশা সব মিলিয়ে এনসিপিআই-তে যাওয়া সাংসদদের সামনে আইনি লড়াই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দশম তফসিলের এই পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





