জলপাইগুড়ি, ১ মে: বড়সড় ডাকাতির ছক ভেস্তে দিল বানারহাট থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি জেরায় উঠে এসেছে মাদক কারবারের সঙ্গেও তাদের দীর্ঘদিনের যোগসূত্রের তথ্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৮ এপ্রিল বানারহাট থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার ভিত্তিতে অভিযান শুরু হয়। অভিযোগ ছিল, একদল দুষ্কৃতী ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করছে। সেই সূত্র ধরেই শান্তিপাড়া এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় শীল ওরফে গদো এবং সাদ্দাম আনসারিকে সেদিনই গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে আসে পুলিশের।
ধৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চামুর্চী এলাকা থেকে শেখর তামাং ওরফে লালাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, তাদের কাছ থেকে দুটি বড় ধারালো দা এবং একটি ছোট ছুরি উদ্ধার হয়েছে, যা সম্ভাব্য অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল।
তিন অভিযুক্তকেই বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে অভিযুক্তরা শুধু ডাকাতির পরিকল্পনাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গেও জড়িত ছিল। বিশেষ করে ব্রাউন সুগার পাচারের সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই চক্রের সঙ্গে স্থানীয় ও ভিন জেলার আরও বেশ কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে। ধৃতরা ফালাকাটা, বীরপাড়া, চামুর্চী এবং বান্দাপানি এলাকায় সক্রিয় ছিল বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই জেরায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশের এই অভিযানে বড়সড় অপরাধ রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন। পাশাপাশি, মাদক পাচার চক্রের শিকড় খুঁজে বের করতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।





