কোচবিহার, ৩১ অক্টোবরঃ রাসমেলার ঢাকে কাঠি পড়তে এখনও বাকি। কিন্তু তার আগেই প্রস্তুতির তোড়জোড় শুরু করে দিল কোচবিহার জেলা পুলিশ। একদিকে ঐতিহ্যবাহী রাসমেলাকে কেন্দ্র করে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা, অন্যদিকে শহরের যানজট ও নিরাপত্তা সামলানোর চ্যালেঞ্জ। উৎসবের দিনগুলিতে যাতে যানজটে নাকাল হতে না হয় সাধারণ মানুষকে, দর্শনার্থীদেরও যাতে নির্বিঘ্নে মেলা চত্বরে পৌঁছতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই লক্ষ্যেই আগাম পরিকল্পনায় নামল পুলিশ। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নো এন্ট্রি পয়েন্ট পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন জেলা পুলিশের আধিকারিকরা।
কোচবিহারের রাসমেলা শুধু একটি উৎসব নয়, জেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম পরিচয়। প্রতি বছর এই মেলাকে কেন্দ্র করে শহরে ভিড় জমান দূরদূরান্তের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা এবং প্রতিবেশী রাজ্য থেকেও আসেন বহু দর্শনার্থী। ফলে মেলার দিনগুলিতে শহরের প্রধান রাস্তা, সংযোগকারী পথ এবং মেলা সংলগ্ন এলাকায় যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা পুলিশের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
এই পরিস্থিতি মাথায় রেখেই আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে জেলা পুলিশ। শহরের বিভিন্ন নো এন্ট্রি পয়েন্টে গিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। কোন রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে, কোথায় নো এন্ট্রি কার্যকর করা প্রয়োজন এবং কী ভাবে ভিড় সামলানো যাবে, তা নিয়ে পরিদর্শনের সময় আলোচনা করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
শুধু যানজট নিয়ন্ত্রণ নয়, রাসমেলা চলাকালীন দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। মেলা চত্বর ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলিতে যাতে সুষ্ঠু নজরদারি বজায় থাকে, সেই বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত ট্রাফিক পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী যান চলাচলে বিধিনিষেধ এবং বিকল্প পথের ব্যবস্থাও করা হতে পারে। মেলা শুরু হওয়ার আগেই পুলিশের এই তৎপরতা শহরবাসীর কাছে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। এখন লক্ষ্য একটাই ঐতিহ্যের রাসমেলায় আনন্দের পথে যেন বাধা না হয়ে দাঁড়ায় যানজট কিংবা নিরাপত্তার সমস্যা।





