দিনহাটা, ৩১ অক্টোবরঃ রাজনৈতিক সংঘাতের আঁচ এ বার পৌঁছে গেল এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার জীবনে! অভিযোগ, রাজনৈতিক আক্রোশের জেরে মারধর করা হয়েছিল আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক মহিলাকে। সেই ঘটনার পর হাসপাতালে মৃত সন্তান প্রসব করেছেন তিনি। অনাগত সন্তানের মৃত্যু ঘিরে শোক, ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে দিনহাটার বড়শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েতের কুচনি এলাকায়। তৃণমূল কংগ্রেসের এক পঞ্চায়েত সদস্যার পরিবারের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই এই হামলা বলে অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে গেরুয়া শিবির।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত দেবজিত বর্মনের বৌদি বড়শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যা। পেশায় গৃহশিক্ষক দেবজিতের পরিবারের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই এই ঘটনা বলে অভিযোগ। গত ২৯ অক্টোবর রাতে কুচনি এলাকায় দেবজিত ও তাঁর আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর উপর চড়াও হয় একদল লোক। অভিযোগ, তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয়। আচমকা এই হামলায় গুরুতর জখম হন ওই মহিলা। রাতেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
এর পর রাতে শুক্রবার দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে মৃত সন্তানের জন্ম দেন ওই মহিলা। পরিবারের অভিযোগ, হামলার অভিঘাতেই এই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের তরফে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা যায়নি। ফলে ঘটনার সঙ্গে মৃত সন্তান প্রসবের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ।
এক অনাগত সন্তানকে হারিয়ে কার্যত ভেঙে পড়েছেন দেবজিত। রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তাঁর পরিবারের উপর এমন হামলার অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় ১০ জন বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্য দিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। কোচবিহার জেলা বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, ঘটনাটি তাঁর কানে এসেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযুক্তরা দোষী প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক সংঘাতের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে এক অনাগত প্রাণের মৃত্যু। ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। তবে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে কোনও অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে আক্রান্ত হতে হল কি না, সেই অভিযোগ ঘিরে দিনহাটায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।





