মাথাভাঙ্গা, ৩১ অক্টোবরঃ গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে আচমকাই হানা দিল ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল। একের পর এক বাড়িতে ঢুকে চলল ভাঙচুর। বাদ গেল না ঘরের আসবাবপত্র, দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রীও। এমনকি বাড়ির মহিলাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। পরপর সাতটি বাড়িতে হামলা চালানোর পাশাপাশি টাকা-পয়সা লুটের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মাথাভাঙার বৈরাগীরহাট এলাকায়। শুক্রবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে মাথাভাঙা ১ নম্বর ব্লকের বৈরাগীরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের বেঙ্গলদই সংলগ্ন এলাকায়। আক্রান্তদের দাবি, তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত বলেই রাজনৈতিক আক্রোশ থেকে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈরাগীরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি সুলতান মিয়া এবং নুরজামাল মিয়া-সহ তাঁদের মোট সাতজন আত্মীয়ের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। আক্রান্ত পরিবারের দাবি, শুক্রবার গভীর রাতে আচমকাই ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল এলাকায় ঢোকে। তার পর একের পর এক বাড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর শুরু করে। ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করার পাশাপাশি কয়েকটি বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী লুট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
ঘটনার সময় অধিকাংশ পরিবারের সদস্যই ঘুমিয়ে ছিলেন। আচমকা হইচই ও ভাঙচুরের শব্দে ঘুম ভাঙে তাঁদের। বাড়ির মহিলাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করে। ধাক্কাধাক্কিও করা হয়। রাতের অন্ধকারে এমন হামলার ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার পর থেকে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
কেন এই হামলা, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। আক্রান্তদের একাংশের অনুমান, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁদের রাজনৈতিক যোগ থাকার কারণেই এই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে হামলাকারীরা কারা, কী উদ্দেশ্যে সাতটি বাড়িতে একযোগে তাণ্ডব চালাল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এক রাতের ঘটনায় সাতটি পরিবার কার্যত বিপর্যস্ত। রাজনৈতিক বিরোধ, নাকি অন্য কোনও বিবাদ হামলার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।





