কলকাতা, ২৯ সেপ্টেম্বরঃ বাংলায় জঙ্গি সংগঠনের মডিউল তৈরির অভিযোগের তদন্তে এ বার রাজ্যে একযোগে তল্লাশি চালাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। অসমে দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরে মঙ্গলবার সকাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি জায়গায় অভিযান চালানো হয়। দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর, পূর্ব বর্ধমান এবং ডায়মন্ড হারবার-সহ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালান এনআইএ আধিকারিকেরা। তদন্তকারীদের দাবি, বাংলাদেশভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ-এর শাখা বা আদর্শের সঙ্গে যুক্ত একটি নেটওয়ার্কের গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘ইমাম মাহমুদর কফিলা’ নামে একটি নেটওয়ার্ক। এনআইএর আগের তদন্তে এই সংগঠনকে জেএমবির একটি শাখা বা তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চলতি বছরের জুনে এনআইএ জানিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি রাজ্যে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জঙ্গি মতাদর্শ ছড়ানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
এদিনের অভিযানের নেপথ্যে রয়েছে অসমে চলা সেই তদন্তই। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি অসমে এক যুবককে গ্রেফতারের পর তাঁকে জেরা করে বাংলায় যুবকদের প্রভাবিত করার অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। ধৃতের ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখেও তদন্তকারীরা কিছু সূত্র পান বলে খবর। সেই সূত্র ধরেই এ দিনের তল্লাশি।
তদন্তকারীদের নজরে বিশেষ ভাবে রয়েছে সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে তরুণদের প্রভাবিত করার অভিযোগ। তবে তল্লাশি চলাকালীন কী কী নথি বা ডিজিটাল সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, কিংবা কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এনআইএ সূত্রে আরও তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
বাংলায় জঙ্গি নেটওয়ার্কের উপস্থিতি নিয়ে অবশ্য এর আগেও একাধিক তদন্ত হয়েছে। এনআইএর পুরনো তদন্তে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় জেএমবির নিয়োগ, উগ্রপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত করা এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নেটওয়ার্কের উল্লেখ পাওয়া গিয়েছিল।
ফলে মঙ্গলবারের পাঁচ জায়গায় একযোগে তল্লাশি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বাংলার মাটিতে কি ফের কোনও আন্তঃরাজ্য জঙ্গি নেটওয়ার্কের শিকড় ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন ডিজিটাল তথ্য থেকে মাঠপর্যায়ের যোগাযোগ সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।





