কলকাতা, ২৩ জুনঃ পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতির মাত্র দু’দিনের মধ্যেই তাঁকে আবেগঘন চিঠি লিখলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২২ জুন, সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের লেটারহেডে পাঠানো তিন পাতার সেই চিঠিতে উঠে এসেছে মোদি সরকারের কাশ্মীর নীতি, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশংসা। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের একমাসের মাথায় এই চিঠি নিঃসন্দেহে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
চিঠির শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীকে ‘পরম সম্মানীয় মোদীজি’ বলে সম্বোধন করেছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরের দুর্নীতি, অপশাসন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর পশ্চিমবঙ্গ এখন সুশাসন, উন্নয়ন এবং প্রগতির পথে এগোচ্ছে। সেই সূত্রেই বাংলার মানুষের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ‘গৈরিক অভিনন্দন’ এবং আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
চিঠিতে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান। শুভেন্দু লিখেছেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গকে অবিভক্ত ভারতের অংশ হিসেবে ধরে রাখার ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তাঁর উদ্যোগেই হিন্দু বাঙালিরা একটি নির্দিষ্ট ভূমি পেয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সিএএ কার্যকর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে কুর্নিশ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, দেশভাগ, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ধর্মীয় নিপীড়নের জেরে যারা পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন, সিএএ তাঁদের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পথ খুলে দিয়েছে। শুভেন্দুর ভাষায়, উদ্বাস্তু ও উপদ্রুত মানুষের জন্য এই আইন “ঈশ্বরের আশীর্বাদের মতো”।
চিঠির শেষাংশে নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘায়ু কামনা করে শুভেন্দু লিখেছেন, তাঁর নেতৃত্বেই আগামী দিনে ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগোতে বদ্ধপরিকর রাজ্য সরকার। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফর, পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন এবং বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক বার্তার প্রেক্ষিতে এই চিঠি যে রাজনৈতিকভাবে বড় ইঙ্গিত বহন করছে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।





