কলকাতা, ৪ আগস্টঃ এক সময় যাঁর নির্বাচনী কৌশলে ভর করে একের পর এক কঠিন রাজনৈতিক লড়াই জিতেছিল তৃণমূল, সেই প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত সাফল্যের দিনেও নীরব কালীঘাট। বিহারের বাঁকিপুর উপনির্বাচনে জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে জয়ের পর রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন কেন এখনও প্রশান্ত কিশোরকে শুভেচ্ছা জানালেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
দীর্ঘদিন ধরে ‘কিংমেকার’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। বিজেপি থেকে তৃণমূল একাধিক দলের নির্বাচনী কৌশলের নেপথ্যে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালে নিজের রাজনৈতিক অভিষেকেই জয় ছিনিয়ে নিয়ে তিনি দেখিয়ে দিলেন, শুধু অন্যকে জেতানো নয়, নিজেও ভোটে জিততে পারেন। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের ছেড়ে যাওয়া বাঁকিপুর আসনে তাঁর জয় রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
তৃণমূলের সঙ্গে প্রশান্ত কিশোরের সম্পর্কও কম আলোচিত নয়। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আইপ্যাকের মাধ্যমে তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। ঘনিষ্ঠ মহলে একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দক্ষতার প্রশংসাও করেছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘মমতাদিকে শেখানোর কিছু নেই। আমি শুধু কিছু পরামর্শ দিয়েছি।’’
তবু আজ তাঁর জয়ে কালীঘাটের নীরবতা ঘিরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আইপ্যাক এবং সংশ্লিষ্ট বিতর্ক নতুন করে সামনে আনতে চাইছে না তৃণমূল। আবার অন্যদের দাবি, বিহারে পিকে-র জয় বিজেপির ক্ষতি করলেও তা ইন্ডিয়া জোটের অঙ্কও বদলে দিতে পারে। ফলে জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক হিসেবে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা জানানো রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর হতে পারে তৃণমূলের কাছে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতে প্রশান্ত কিশোরকে ‘ওভাররেটেড’ বলেছিলেন। সেই পুরনো দূরত্বও কি এখনও রয়ে গিয়েছে? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।
তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের তরফে এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে প্রশান্ত কিশোরের জয়ের থেকেও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে কালীঘাটের এই নীরবতাই।





