কলকাতা, ১৯ আগস্টঃ শিখা ইন-এর ঠিক উল্টো দিকে আর একটি হোটেল। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে আচমকাই সেখানকার কর্মীদের চোখে পড়েছিল লেলিহান আগুন। ঘড়িতে তখন রাত ৩টে। সামনে দাউদাউ করে জ্বলছে ‘শিখা ইন’। হোটেলকর্মীরা ছুটে খবর দেন মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে। ফোন করেছিলেন এক বার নয়, বার বার। কিন্তু প্রথমে ফোন ধরেননি তিনি। তার পর মোবাইল বন্ধ। সেই থেকে আর কোনও খোঁজ নেই বীরেশ্বরের। নিউ মার্কেটের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে এখন মালিকের ‘নিখোঁজ’ হওয়াও নতুন প্রশ্ন।
মির্জা গালিব স্ট্রিটে বীরেশ্বরের দু’টি হোটেল ছিল বলে জানা গিয়েছে ‘শিখা ইন’ এবং তার ঠিক উল্টো দিকে ‘জাপন’। দু’টিই ছোট পরিসরের। মঙ্গলবার গভীর রাতে ‘জাপন’-এর কর্মীরাই প্রথম দেখতে পান, উল্টো দিকের হোটেল থেকে আগুনের শিখা উঠছে। কর্মী ইন্দ্রদেব পাসওয়ান জানিয়েছেন, সঙ্গে সঙ্গেই মালিককে ফোন করেন তিনি। কিন্তু ফোন ধরেননি বীরেশ্বর। কিছু ক্ষণ পরে ফের ফোন করা হয়। তাতেও সাড়া মেলেনি। এর মধ্যেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল।
তার পর থেকেই বীরেশ্বরের মোবাইল বন্ধ। একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ এখন তাঁর খোঁজ করছে।
এই ঘটনার সঙ্গে আরও একটি ছবি সামনে এসেছে নিউ মার্কেটের সস্তার হোটেলগুলির ব্যবসা। সরু সিঁড়ি, ঘুপচি ঘর, সামান্য জায়গায় গড়ে ওঠা একের পর এক হোটেল। ভাড়া তুলনামূলক কম হওয়ায় চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা বহু মানুষ, বিশেষ করে বাংলাদেশি নাগরিকেরা, এমন হোটেলেই থাকেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
ইন্দ্রদেবের কথায়, ‘জাপন’-এর নন-এসি ঘরের ভাড়া ৫০০-৬০০ টাকা। এসি ঘর ৮০০ টাকার মধ্যে। কম খরচে থাকার এই সুযোগই এমন হোটেলগুলির অন্যতম আকর্ষণ। কিন্তু সেই সস্তার আড়ালে নিরাপত্তার প্রশ্নটি কতটা উপেক্ষিত, ‘শিখা ইন’-এর আগুন যেন তারই ভয়াবহ উত্তর। টাকা বাঁচাতে গিয়ে যদি প্রাণটাই চলে যায় তবে সেই সস্তার হিসাবই বা কতটা?





