নয়াদিল্লি, ৯ ডিসেম্বর: কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের উদ্যোগে তৈরি ‘উমিদে’ পোর্টালে দেশের সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তির নথিভুক্তিকরণ শেষ হল ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সব রাজ্যকে ওয়াকফ সম্পত্তির বিস্তারিত খতিয়ান আপলোড করতে বলা হয়েছিল। ছ’মাসের এই সময়সীমার শেষে মন্ত্রক জানিয়েছে সারা দেশে মোট ৫ লক্ষ ১৭ হাজার ৪০টি ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৯০৫টি সম্পত্তি ইতিমধ্যেই অনুমোদন পেয়েছে।
গত ৬ জুন ‘উমিদে’ পোর্টাল চালু করে কেন্দ্র। শুরু থেকেই ধীরগতিতে নথিভুক্তিকরণ হওয়ায় উদ্বেগ ছিল প্রশাসনের। তবে শেষ কয়েক সপ্তাহে কাজের গতি বেড়ে যায় বলে জানানো হয়েছে মন্ত্রকের তরফে। সংখ্যালঘু মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বিশেষ তৎপরতা নথিভুক্তিকরণের গতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।” নথিভুক্তিকরণের সময় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ১০ হাজার ৮৬৯টি সম্পত্তি বাতিল করা হয়েছে।
কোন রাজ্যে কত সম্পত্তি নথিভুক্ত হল, সেই তালিকাও প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশ সর্বোচ্চ সংখ্যক ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্ত করেছে ৯২,৮৩০টি। এর মধ্যে ৮৬,৩৪৫টি সুন্নি এবং ৬,৪৮৫টি শিয়া সম্প্রদায়ের সম্পত্তি। দ্বিতীয় স্থানে মহারাষ্ট্র, যেখানে নথিভুক্ত হয়েছে ৬২,৯৩৯টি। তৃতীয় স্থানে কর্নাটক, নথিভুক্ত সম্পত্তি ৫৮,৩২৪টি।
এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান তুলনামূলক ভাবে পিছিয়ে নথিভুক্ত হয়েছে মাত্র ২৩,০৮৬টি ওয়াকফ সম্পত্তি। কিন্তু এখানেই তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। কারণ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ওয়াকফ দফতরের সরকারি ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে রাজ্যে মোট ওয়াকফ সম্পত্তি ৮২,৬১৬টি। ফলে নথিভুক্তিকৃত সম্পত্তি এবং প্রকৃত সম্পত্তির সংখ্যার মধ্যে বিপুল ফারাক নিয়ে উঠছে বিতর্ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, “ডেটা আপলোডে বিলম্ব, ভুল তথ্য এবং জমির মালিকানার বিতর্ক এই কারণেই এত বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে।”
এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের আরও কত ওয়াকফ সম্পত্তি আগামী দিনে নথিভুক্ত হবে, তা নিয়েই এখন আগ্রহ ওয়াকিবহাল মহলে। কেন্দ্র জানিয়েছে, পোর্টালের যাচাই প্রক্রিয়া চলবে এবং প্রয়োজন হলে রাজ্যগুলিকে ফের নির্দেশ পাঠানো হবে।





