নয়াদিল্লি, ৩১ অক্টোবরঃ ‘ভোটচুরি’র অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ফের সরব বিরোধীরা। রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড়সড় প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ‘ইন্ডি’ জোট। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই জমায়েত। কর্মসূচিতে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই দিল্লি রওনা হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত থাকার কথা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী শিবিরের একাধিক শীর্ষ নেতার। সম্ভাব্য বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে রামলীলা ময়দান ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা এবং যান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে দিল্লি পুলিশ।
বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করা হচ্ছে। সেই অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর অপসারণের দাবি জানাচ্ছে বিরোধী জোট। শুধু রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাই নন, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, কেন্দ্রবিরোধী বিশিষ্টজন এবং সাধারণ মানুষেরও এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা। আইসা-র প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নবগঠিত ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যদেরও উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সমাবেশে বিপুল ভিড় হতে পারে বলে অনুমান পুলিশের। সেই কারণে শনিবারই রামলীলা ময়দান পরিদর্শন করেন দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। নিরাপত্তার জন্য ১৪টি জোনে নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ব্যবহার করা হবে প্রায় ২০০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ক্যামেরা। পাশাপাশি মোতায়েন থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশকর্মী।
ভিড়ের প্রভাব পড়তে পারে মধ্য দিল্লির যান চলাচলেও। দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী রাজঘাট, দিল্লি গেট, আইটিও, আজমেরি গেট, তুর্কমান গেট-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যান চলাচল ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। বাহাদুর শাহ জাফর মার্গ, জেএলএন মার্গ, ডিবিজি রোড এবং মিন্টো রোডেও নিয়ন্ত্রণ জারি হতে পারে। রাজনৈতিক প্রতিবাদের মঞ্চ হিসেবে রবিবার রামলীলা ময়দান কতটা জনসমাগমের সাক্ষী হয়, এখন সেদিকেই নজর। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও যানজট সামলানোও দিল্লি পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।




