দিনহাটা, ৩১ অক্টোবরঃ রাজনৈতিক সংঘাতের অভিযোগ ঘিরে দিনহাটার কুচনিতে মর্মান্তিক পরিণতি। আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রিয়া পালের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। শুক্রবার মৃত সন্তান প্রসব করেন তিনি। এই ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন দিনহাটার বিধায়ক অজয় রায়।
ঘটনাটি দিনহাটা-২ ব্লকের বড়শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েতের কুচনি এলাকার। পরিবার সূত্রে অভিযোগ, গত বুধবার রাতে টিউশন পড়িয়ে বাড়ি ফেরার পথে গৃহশিক্ষক দেবজিৎ বর্মনের উপর হামলা চালায় কয়েক জন। কোনও রকমে বাড়িতে পৌঁছলেও সেখানেও তাঁর উপর চড়াও হয় অভিযুক্তেরা। স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী প্রিয়া পালকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, দেবজিতের বৌদি তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা। সেই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার পর আহত দম্পতিকে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরই মধ্যে শুক্রবার মৃত সন্তান প্রসব করেন প্রিয়া। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। যদিও হামলার সঙ্গে সন্তানের মৃত্যুর সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য ও তদন্তের ভিত্তিতেই স্পষ্ট হবে।
ঘটনায় সাহেবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। সেই তদন্তের ভিত্তিতে চন্দন বর্মন ও মনোরঞ্জন বর্মন নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিজেপির সঙ্গে যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কুচনিতে যান দিনহাটার বিধায়ক অজয় রায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। বিধায়কের বক্তব্য, ঘটনায় যারা দোষী, প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। অভিযুক্ত যে দলেরই হোক, কাউকে রেয়াত করা হবে না। পরিবারের যে কোনও প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।
একটি পরিবারের এমন বিপর্যয়কে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি এখন নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা।




