গড়বেতা, ৩১ অক্টোবরঃ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলির তদন্তের বার্তা দিচ্ছে বিজেপি সরকার। এ বার সেই তালিকায় বাম আমলের বিতর্কিত ঘটনাও। পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার সভা থেকে ছোট আঙারিয়া গণহত্যা থেকে শুরু করে নন্দীগ্রামের ‘রক্তাক্ত সূর্যোদয়’ একাধিক ঘটনার পুরনো মামলা নতুন করে খোলার হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে সরাসরি নিশানা করে তাঁর ঘোষণা, “ছোট আঙারিয়া থেকে শুরু করে সব কেসের ফাইল রিওপেন করব। একটাকেও ছাড়া হবে না।”
রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ গড়বেতার মাটি থেকেই এ দিন বাম আমলের হিংসার প্রসঙ্গ তুলে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। ২০০১ সালের ৪ জানুয়ারি ছোট আঙারিয়া গ্রামে তৃণমূল কর্মী বক্তার মণ্ডলের বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পর পাঁচ তৃণমূল কর্মী নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁদের পুড়িয়ে মারা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি সে সময় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছিল। সিপিএম নেতা সুশান্ত ঘোষ, তপন ঘোষ ও সুকুর ঘোষের নামও ওই ঘটনায় জড়িয়েছিল। যদিও ২০০৯ সালে সাক্ষীর অভাবে আদালতে অভিযুক্তেরা খালাস পান।
এ দিনের সভায় সেই পুরনো ঘটনাকেই ফের সামনে আনেন শুভেন্দু। পাশাপাশি ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর হুঁশিয়ারি, যারা বন্দুক নিয়ে সেখানে রক্তাক্ত সূর্যোদয় ঘটাতে গিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে মামলাও নতুন করে খোলা হবে। সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিমের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়েই এই আক্রমণ বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
সভামঞ্চ থেকে তপন ও সুকুরের নাম করেও আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, একসময় তাঁকে গড়বেতায় ঢুকতে বাধা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। তার জবাবে তিন দিনের মধ্যে চন্দ্রকোনা রোডে গিয়ে সভা করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ছোট আঙারিয়া মামলার তদন্ত ও বিচারপর্ব একাধিকবার রাজ্য রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে ফের সেই মামলা খোলার হুঁশিয়ারি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিল। তবে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর বাস্তবে কোন কোন মামলা পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে, তদন্ত কোন পথে এগোবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




