মালদা, ১৮ ডিসেম্বরঃ পুরাতন মালদা পৌরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে কার্তিক ঘোষকে সরানো নিয়ে ফের প্রকাশ্যে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল কংগ্রেসেরই এক কাউন্সিলর। দলের জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়ে পুরাতন মালদা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বৈশিষ্ট্য ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, কার্তিক ঘোষকে সরানোর আগে মালদা জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি এবং জেলা পরিষদের সভাধিপতিকে সরানো উচিত ছিল।
বৈশিষ্ট্য ত্রিবেদীর দাবি, গোটা মালদা জেলায় লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির দায় জেলা নেতৃত্বের। অথচ সেই নেতৃত্বকে অক্ষত রেখে শুধুমাত্র পৌরসভায় ফল খারাপ হওয়ার অজুহাতে চেয়ারম্যানকে সরানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই চেয়ারম্যান পদ নিয়ে দরদাম চলছিল এবং ‘সঠিক দাম’ পাওয়ার পরই কার্তিক ঘোষকে সরানো হয়েছে। টাকার জোরেই তৃণমূল কংগ্রেস চলছে বলেও তোপ দাগেন তিনি।
এদিন আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করে বৈশিষ্ট্য ত্রিবেদী বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচন সংক্রান্ত খামের উপর রাজ্য নেতৃত্ব সুব্রত বক্সির স্বাক্ষর ছিল না, ছিল জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সির সই। সেখান থেকেই তিনি বিষয়টি বুঝে যান বলে দাবি করেন। এমনকি জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগও তোলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ ডিসেম্বর তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব পুরাতন মালদা পৌরসভার চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়। ২৫ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর প্রায় দু’সপ্তাহ টানাপোড়েনের পর বুধবার পৌরসভার নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নেন বিভূতি ঘোষ। ভাইস চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকেন সফিকুল ইসলাম।
যদিও এই বিষয়ে জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। দলের জেলা মুখপাত্র আসিস কুন্ডু বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চেয়ারম্যান বদল হয়েছে এবং সকল কাউন্সিলর একসঙ্গে দলকে শক্তিশালী করবেন।
অন্যদিকে, পুরাতন মালদার বিধায়ক গোপাল সাহা দাবি করেন, চেয়ারম্যান বদল করেও তৃণমূলের কোনও লাভ হবে না। পুরাতন মালদা পৌরসভার মানুষ বিজেপির সঙ্গেই রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।





