মাথাভাঙা, ১ সেপ্টেম্বর: এক সময় যে পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছিলেন, আজ সেই অফিসের প্রশাসনিক দায়িত্বই তাঁর কাঁধে। মঙ্গলবার মাথাভাঙা-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হলেন বিজেপির বাবু বর্মন। সহ-সভাপতি হয়েছেন একই দলের বিপিন বর্মন। তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণ ঘিরে বিডিও অফিস চত্বরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর মাথাভাঙা-১ পঞ্চায়েত সমিতির রাজনৈতিক সমীকরণ ছিল এক রকম। ৩০ আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ২৫টি, বিজেপি পাঁচটি। পরে লোকসভা নির্বাচনের পর দলবদলের জেরে বিজেপির দুই পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হেমন্ত বর্মন ও গোপাল বর্মন তৃণমূলে যোগ দেন বলে দলীয় সূত্রের খবর। ফলে তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা বেড়ে ২৭ এবং বিজেপির কমে দাঁড়ায় তিন।
এর পর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে ফের বদলায় সমীকরণ। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের কয়েক জন জনপ্রতিনিধি এলাকায় না থাকায় এবং পঞ্চায়েত কার্যালয়ে নিয়মিত না আসায় পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছিল। তৃণমূলের বক্তব্য অবশ্য এই বিষয়ে ভিন্ন হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে নেতৃত্বের বদল শুরু হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় এ দিন মাথাভাঙা-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদে বিজেপির দুই সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হল। বাবু সভাপতি এবং বিপিন সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন।
দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে বিডিও অফিস চত্বরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড় দেখা যায়। ঢাকঢোল, আবির খেলা, বাজি ফাটানো থেকে মিষ্টিমুখ উচ্ছ্বাসে কার্যত উৎসবের চেহারা নেয় এলাকা।
রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের এই পর্বে বাবু বর্মনের উত্থান তাই শুধু একটি পদবদলের ঘটনা নয়। স্থানীয় রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য কী ভাবে বদলায়, তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ যেন তারই একটি দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি।





