খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বরঃ আরএসএসের শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে এসে বৃহত্তর হিন্দু ঐক্যের আহ্বান জানালেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। রবিবার কলকাতার সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত ‘শতায়ু সংঘ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আরএসএস ও বিজেপিকে এক করে দেখলে ভুল হবে। সংঘের কোনও শত্রু নেই, একমাত্র লক্ষ্য হিন্দু সমাজের ঐক্য ও সংহতি।
মোহন ভাগবত তাঁর বক্তৃতায় বলেন, “সংঘ নিয়ে বহু জায়গায় ভুল ব্যাখ্যা করা হয়। অনেকেই আরএসএসের নাম জানেন, কিন্তু কাজ জানেন না। সংঘ কোনও বিরোধের মনোভাব নিয়ে চলে না। আরএসএস শুধুমাত্র হিন্দু সমাজের উন্নতির কথা ভাবে।” তাঁর দাবি, সংঘ যত শক্তিশালী হয়, ততই কিছু মানুষের স্বার্থে আঘাত লাগে। কিন্তু তাতেও সংঘ কারও শত্রু হয়ে ওঠে না।
রাজনীতির সঙ্গে সংঘকে অহেতুক জুড়ে দেওয়ার প্রবণতারও সমালোচনা করেন সরসংঘচালক। তাঁর কথায়, “আরএসএসে বিজেপির অনেক নেতা আছেন, এটা সত্য। কিন্তু তাই বলে আরএসএস আর বিজেপিকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। সংঘ রাজনৈতিক দল নয়। আমাদের লক্ষ্য ক্ষমতা নয়, সমাজ গঠন।”
হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রসঙ্গে মোহন ভাগবত বলেন, শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়া জরুরি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বাঙালি মনীষীদের প্রসঙ্গও। স্বামী বিবেকানন্দ, রাজা রামমোহন রায় এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এঁরাই ভারতীয় সমাজকে নতুন দিশা দেখিয়েছেন। বিশেষভাবে রামমোহন রায়ের প্রশংসা করে ভাগবত বলেন, “রামমোহন রায় আজীবন সমাজ সংস্কারের জন্য লড়াই করেছেন। তাঁর হাত ধরেই সমাজ সংস্কারের ধারার সূচনা হয়েছিল। সেই ধারাকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় আরএসএস।”
সংঘপ্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের ইতিহাসে বারবার বিদেশি শক্তির হাতে পরাজয়ের মূল কারণ ছিল সামাজিক বিভাজন। তিনি বলেন, “হিন্দু সমাজ ঐক্যবদ্ধ ছিল না বলেই শক, হুন, পাঠান, মোগল থেকে শুরু করে ইংরেজরা এদেশ শাসন করেছে। আটবার ভারত বিদেশিদের হাতে বেদখল হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন না হয়, তার জন্য সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।”
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অশান্তির আবহে বঙ্গে এসে এই ঐক্যের বার্তা যে তাৎপর্যপূর্ণ, তা মানছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, বৃহত্তর হিন্দু ঐক্যের বার্তা দিয়ে কি বিজেপির থেকে সাংগঠনিক দূরত্ব বাড়াতে চাইছেন মোহন ভাগবত? নাকি তিনি বুঝেছেন, সরাসরি রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে বাংলায় সংঘের সামাজিক বিস্তার কঠিন? এই প্রশ্নের উত্তর আপাতত খোলা থাকলেও,সংঘপ্রধানের বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।





