কলকাতা, ৪ আগস্ট: একের পর এক সাইবার প্রতারণার ঘটনার মধ্যেই এবার হ্যাকারদের নিশানায় রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে পরিচয় ভাঁড়িয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে টাকা চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই নিজেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর আবেদন, “আমার নামে কেউ টাকা চাইলে বিশ্বাস করবেন না, কোনও অর্থ পাঠাবেন না।”
মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন ক্ষুদিরাম টুডু। সেখানে তিনি জানান, তাঁর ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি হ্যাক হয়েছে। সেই অ্যাকাউন্ট থেকেই পরিচিতজন, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে অর্থ চেয়ে বার্তা পাঠানো হচ্ছে। মন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, তাঁর নামে আসা কোনও টাকা চাওয়ার বার্তা বা ফোন যেন কেউ বিশ্বাস না করেন।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, “প্রিয় আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীরা, আমার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর হ্যাক হয়েছে। আমার পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে টাকা চাওয়া ও বিভ্রান্তিকর বার্তা পাঠানো হচ্ছে। অনুগ্রহ করে এই ধরনের কোনও মেসেজের উত্তর দেবেন না এবং কোনও অর্থ লেনদেন করবেন না।”
মন্ত্রী আরও জানান, সমস্যার কথা জানতে পেরেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে তাঁর পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, এটি প্রথম ঘটনা নয়। মাসখানেক আগেই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টও একইভাবে হ্যাক হয়েছিল। সেখান থেকেও পরিচিতদের কাছে অর্থ চেয়ে বার্তা পাঠানোর অভিযোগ ওঠে। পরপর দুই মন্ত্রীর অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক মহলেও উদ্বেগ বেড়েছে।
সম্প্রতি রাজ্য সরকার সাইবার প্রতারণা রুখতে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতিটি থানায় সাইবার হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে এবং প্রতারণার শিকার মানুষকে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। তবু প্রতারকদের নতুন নতুন কৌশল উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার প্রবণতা বাড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন।





