কলকাতা, ৪ আগস্টঃ শুধু সভামঞ্চ বা যাত্রাপথ নয়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চিনার পার্কের বাড়িও ছিল নজরে। জইশ-ই-মহম্মদের ধৃত সদস্য হামিম মণ্ডলকে জেরা করে এমনই বিস্ফোরক তথ্য পাওয়ার দাবি তদন্তকারীদের। এমনকি নবান্ন চত্বরেও সে বা তার সহযোগীরা নজরদারি চালিয়েছিল কি না, তা জানতে সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার হয় হামিম মণ্ডল। তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বল দিক চিহ্নিত করাই ছিল তার অন্যতম দায়িত্ব। বিশেষ করে ‘আনগার্ডেড লোকেশন’ বা নিরাপত্তার ফাঁক খুঁজে বের করে ভবিষ্যৎ নাশকতার নীলনকশা তৈরির পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ।
জেরায় উঠে এসেছে, মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক সরকারি কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকেছে হামিম। শুধু তাই নয়, চিনার পার্কের বাড়ির আশপাশেও রেইকি চালানো হয়েছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, দীর্ঘদিন নজরদারি চালানোর সুবিধার জন্য ওই এলাকায় বাড়ি ভাড়া নেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। যদিও বাস্তবে তারা বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হামিমের নিশানায় ছিলেন হাওড়া উত্তরের বিধায়ক তথা পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইও। অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে অপহরণের ছক কষা হয়েছিল। এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা জানিয়েছেন, ধৃতদের জেরা থেকেই এই সমস্ত তথ্য উঠে এসেছে।
এদিকে হামিমের সহযোগী হিসেবে ঝাড়খণ্ডের অর্পিতা সরকার এবং আদিত্য সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অর্পিতার সঙ্গে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য, এই নেটওয়ার্কে আর কারা যুক্ত ছিল, কোথায় কোথায় হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং অর্থের জোগান আসছিল কোন সূত্রে।
তদন্তকারীদের মতে, ধৃতদের জেরা যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। গোটা নেটওয়ার্কের বিস্তার, সম্ভাব্য নাশকতার লক্ষ্য এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের দিকগুলি খতিয়ে দেখতে জোরদার হয়েছে তদন্ত। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নতুন করে পর্যালোচনা করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি।





