খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ জানুয়ারিঃ কিডনিতে পাথর হওয়া এক অতি যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা। লোকমুখে প্রচলিত আছে, “বিয়ার খেলে কিডনির পাথর গলে যায়” বা “প্রস্রাবের চাপ বেড়ে পাথর বের হয়।” কিন্তু এটি কি সত্যিই কার্যকর, নাকি শুধুই একটি বিপজ্জনক মিথ? চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখা যাক।
বিয়ারের মধ্যে ‘ডাই-ইউরেটিক’ উপাদান থাকে, যা সাময়িকভাবে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ায়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি বিপরীত প্রভাব ফেলে। কিডনিতে পাথরের প্রধান কারণ হলো শরীরে জলশূন্যতা। নিয়মিত বিয়ার পান করলে শরীর থেকে জল বের হয়ে যায়, প্রস্রাব গাঢ় হয়, এবং খনিজ উপাদানগুলো ঘনীভূত হয়ে নতুন পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়।
বিয়ারে থাকা ‘পিউরিন’ ভেঙে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। যারা ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা নিয়ে ভুগছেন, তাদের কিডনিতে পাথরের সংখ্যা ও আকার বাড়তে পারে। এছাড়াও, বিয়ারের অতিরিক্ত ক্যালরি ও স্থূলতা কিডনির পাথর বৃদ্ধির ঝুঁকি আরও বাড়ায়।
যদি পাথরের আকার ছোট হয়, ৫ মিমি বা তার কম, তবে প্রচুর জল খেলে তা বের করা সম্ভব। কিন্তু বড় পাথর বের করতে বিয়ারের মাধ্যমে প্রচুর প্রস্রাব চাপানো বিপজ্জনক; মূত্রনালীতে আটকে গেলে সংক্রমণ বা তীব্র যন্ত্রণা সৃষ্টি হতে পারে।
ফিনল্যান্ডের পুরনো গবেষণায় দেখানো হয়েছিল, পরিমিত বিয়ার কিছুটা পাথর ঝুঁকি কমাতে পারে। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, জল, লেবুর রস ও ডাবের জল কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ ও কার্যকর। বিয়ারের অ্যালকোহল লিভার ও হার্টের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাই কথিত সুবিধা নগণ্য।
কিডনিতে পাথর রোধে সঠিক ব্যবস্থা হলো:
পর্যাপ্ত জল পান: দিনে ৩-৪ লিটার জল পান করুন।
লবণ কমান: খাবারে লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন।
লেবু ও সাইট্রাস ফল: সাইট্রিক অ্যাসিড পাথর জমতে বাধা দেয়।
সঠিক ক্যালসিয়াম: হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম নিন।
সংক্ষেপে, কিডনিতে পাথর গলানোর জন্য বিয়ার নয়, জল, লেবু ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই কার্যকর।





