কলকাতা, ২৮ সেপ্টেম্বরঃ ক্ষমতায় আসার পর সংগঠনের ভিতরে নতুন করে যাতে পুরনো অভিযোগের ছায়া না পড়ে, তা নিয়ে সতর্ক বঙ্গ বিজেপি। রাজ্যে সরকার গঠনের পর প্রথম বার বাংলায় এসে দলীয় নেতা-কর্মীদের সামনে দুর্নীতি, তোলাবাজি, দাদাগিরি এবং সিন্ডিকেট-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ক্ষমতা বদলেছে, কিন্তু রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেন না বদলায়।
রবিবার নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে দফায় দফায় বৈঠক করেন নিতিন। প্রথমে রাজ্য পদাধিকারী ও জেলা নেতৃত্ব, পরে সাংসদ-বিধায়ক এবং শেষে মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক হয়। সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সুনীল বনসল-সহ অন্যরা। নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণার পর তাঁর এই সফরেই মূলত সংগঠনের কাজকর্মের খতিয়ান নেওয়া হয়।
সূত্রের খবর, দলীয় বৈঠকে নিতিন স্পষ্ট করেছেন, বিজেপিতে ‘বেনোজল’ ঢোকানো নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। মানুষের যে আস্থা নিয়ে দল ক্ষমতায় এসেছে, তার মর্যাদা দিতে হবে। দলীয় কর্মীদের আচরণেও সংযমের বার্তা দিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির পর সংগঠনকে গুরুত্ব না দেওয়া নেতা-কর্মীদের নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে সূত্রের দাবি।
তবে শুধু শৃঙ্খলার বার্তাতেই থামেননি নিতিন। ক্ষমতার সঙ্গে সংগঠনের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। কোথাও বিধায়ক ও স্থানীয় সাংগঠনিক নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য, কোথাও আবার ‘সমান্তরাল’ ভাবে কাজ করার অভিযোগ উঠছে। সেই জায়গায় সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ের উপর জোর দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দল ও সরকারের মধ্যেও সমন্বয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিধায়ক-মন্ত্রীদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার কথাও বলা হয়েছে। সরকারের কাজের উপর নির্ভর করে বসে না থেকে বুথস্তর পর্যন্ত সংগঠনকে সক্রিয় করার বার্তা এসেছে বৈঠকে। মানুষের কাছে গিয়ে সরকারের কাজের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, ক্ষমতার প্রথম কয়েক মাসের মধ্যেই সংগঠনকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সরকার চালানো আর দল চালানো এক নয়। দু’টির মধ্যে সমন্বয় যেমন দরকার, তেমনই ক্ষমতার সঙ্গে আচরণে বদল না এলে সংগঠনের ভিতও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। সামনে পুরভোটের প্রস্তুতি। তার আগে বঙ্গ বিজেপির কাছে নিতিনের সফরের বার্তা তাই মূলত সংগঠন, শৃঙ্খলা এবং জনসংযোগ ঘিরেই।





