খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১ ফেব্রুয়ারিঃ আগাম জল্পনাই সত্যি হল। বাজেট ২০২৬–২৭ পেশ করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ব্যক্তিগত আয়করে কোনও নতুন ছাড় বা নতুন ট্যাক্স স্ল্যাবের ঘোষণা করলেন না। তবে আয়কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তি-নির্ভর করে তুলতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কথা ঘোষণা করলেন তিনি। একই সঙ্গে কর ফাঁকি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানও স্পষ্ট করে দিলেন অর্থমন্ত্রী।
বাজেট ভাষণে জানানো হয়েছে, আয় গোপন বা ভুল তথ্য দিলে এবার থেকে জরিমানার হার আরও বাড়ানো হচ্ছে। কর অনিয়মের ক্ষেত্রে বকেয়া করের ১০০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করা হবে। পাশাপাশি, স্থাবর নয় এমন আর্থিক সম্পদের তথ্য গোপন করলে, যেখানে এতদিন জরিমানার বিধান ছিল না, এবার থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গবেষণা ক্ষেত্রের জন্য বাজেটে বড় ঘোষণা করা হয়েছে। আইটি, আইটি-এনেবলড সার্ভিসেস (ITeS), কেপিও (KPO) এবং সফটওয়্যার-সংযুক্ত কনট্র্যাক্ট আরঅ্যান্ডডি পরিষেবাকে একটি অভিন্ন কর শ্রেণির আওতায় আনা হচ্ছে। এই সমস্ত পরিষেবার জন্য ১৫ শতাংশ ‘কমন সেফ হারবার মার্জিন’ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের মতে, একই প্রকৃতির পরিষেবাগুলিকে এক ছাতার নীচে আনলে কর সংক্রান্ত জটিলতা কমবে এবং ব্যবসার পরিবেশ আরও অনুকূল হবে।
নন-রেসিডেন্ট করদাতাদের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে। বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা ভারতে অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রির সময় TDS কাটা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ছোট করদাতাদের জন্য ছয় মাসের বিশেষ বিদেশি সম্পদ ঘোষণার স্কিম চালু করা হয়েছে।
করদাতাদের স্বস্তি দিতে আয়কর রিটার্ন সংশোধনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অল্প ফি দিয়ে ITR সংশোধন করা যাবে। তবে ITR-1 ও ITR-2 জমার শেষ তারিখ আগের মতোই ৩১ জুলাই বহাল থাকছে।
এছাড়া বিদেশ ভ্রমণকারীদের জন্য বিদেশি ট্যুর প্যাকেজে TCS কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬–২৭ আয়কর ব্যবস্থায় সংস্কার, স্বচ্ছতা ও কড়াকড়ির স্পষ্ট বার্তা দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





