নয়াদিল্লি, ৫ আগস্টঃ ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে বিতর্ক। সেই আবহেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের মতে, রাষ্ট্রের নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ পরিস্থিতিকে শান্ত করার বদলে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিক্ষোভকারীদের কথা শোনা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছে আদালত।
ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ ভবন অভিযানের সময় লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং মহিলা আন্দোলনকারীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। পাশাপাশি, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ছররা ব্যবহারের অভিযোগও সামনে আসে। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মঙ্গলবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার একসঙ্গে শুনানি করে সুপ্রিম কোর্ট। মামলাকারীদের একাংশের দাবি ছিল, বিক্ষোভে অশান্তির জন্য আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং তাঁদের সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োজিত করার নির্দেশ দেওয়া হোক।
শুনানির সময় আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, “গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার সকলের রয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীগুলিকে ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দিতে হবে। রাষ্ট্রের নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে এবং হিংসা ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ে।”
বিচারপতিরা আরও বলেন, বিক্ষোভকারীরা কী বলতে চাইছেন, তা বোঝার চেষ্টা করাই সবচেয়ে জরুরি। বিশেষ করে যুব সমাজের আন্দোলনের ক্ষেত্রে সংলাপ এবং পরামর্শের পথই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর হতে পারে।
তবে একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব নিরাপত্তা বাহিনীরই। তবে সেই পদক্ষেপ যেন সর্বদা সংযত, প্রয়োজনসাপেক্ষ এবং আইনসম্মত হয় পর্যবেক্ষণে সেই বার্তাই দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।





