খড়্গপুর, ১৩ সেপ্টেম্বরঃ এক দিকে পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থার চিঠিতে সই। অন্য দিকে, তার পরেই কালীঘাট তৃণমূলের নেতার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের পাঁচ কাউন্সিলরের উপস্থিতি। খড়্গপুরের পুরসভা ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের টানাপড়েন এবার যেন নতুন মোড় নিয়েছে। কে কোন শিবিরে, কোন সমীকরণে তা নিয়েই শহর জুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বুধবার পুরপ্রধান কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের চিঠিতে সই করেন বেশ কয়েক জন কাউন্সিলর। সেই চিঠি ইতিমধ্যেই মহকুমাশাসক থেকে শুরু করে পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিক এবং পুরপ্রধান ও উপ পুরপ্রধানের কাছে জমা পড়েছে। গোটা প্রক্রিয়ায় নেতৃত্বে রয়েছেন ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূলের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি, প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা বর্তমান কাউন্সিলর প্রদীপ সরকার।
এর মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় অন্য ছবি খড়্গপুরে। মালঞ্চ এলাকায় তৎকালীন তৃণমূল যুব নেতা গৌতম চৌবের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত হয় ‘অঙ্গীকার সভা’। উদ্যোক্তা কালীঘাট তৃণমূলের নেতা দেবাশিস চৌধুরী। সেই কর্মসূচিতে দেখা যায় অনাস্থা প্রস্তাবে সই করা পাঁচ কাউন্সিলর অপূর্ব ঘোষ, চন্দন সিং, রোহন দাস, প্রবীর ঘোষ এবং আশা দোলুইকে। শুধু উপস্থিতিই নয়, গৌতমের নামে তৈরি শহিদ বেদিতে ফুলও দেন তাঁরা।
স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কি বরফ গলছে? পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা কি এখনও আগের জায়গাতেই রয়েছে? নাকি দলের অন্দরে নতুন কোনও সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে?
যদিও এমন জল্পনা সরাসরি খারিজ করেছেন অনাস্থাকারী কাউন্সিলরদের অন্যতম রোহন দাস। তাঁর বক্তব্য, “দু’টি বিষয়কে এক করে দেখা ঠিক হবে না। আমরা কাউন্সিলর হিসাবে পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছি। আর শনিবার গিয়েছিলাম দলের এক নেতার স্মরণসভায়। আমাদের ডাকা হয়েছিল।”
অন্য দিকে, অনুষ্ঠানে পাঁচ কাউন্সিলরের উপস্থিতি নিয়ে পুরপ্রধান কল্যাণী ঘোষও বিশেষ আশাবাদী নন। তাঁর কথায়, “আমি প্রতিবারের মতো এ বারও গিয়েছিলাম। ওঁরা ওঁদের মতো এসেছিলেন। ডাকা হয়েছিল নিশ্চয়ই। তবে এতে আমি কোনও কিছু আশা করছি না। সময় সব বলবে।”
ফলে আপাতত ধোঁয়াশাই কাটছে না। অনাস্থার চিঠি জমা পড়েছে, কিন্তু ভোটাভুটির দিন এখনও ঘোষণা হয়নি। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে খড়্গপুর। তার আগে শনিবারের কর্মসূচিতে পাঁচ কাউন্সিলরের উপস্থিতি যেন পুরসভার অঙ্কের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক আলোচনায়।
একটি প্রশ্নই এখন ঘুরছে শহরের অলিগলিতে অনাস্থার লড়াই কি সত্যিই পুরপ্রধান বনাম বিদ্রোহী কাউন্সিলরদের, নাকি এর আড়ালে চলছে তৃণমূলের দুই শিবিরের আরও বড় কোনও সমীকরণের খেলা? উত্তর মিলবে অনাস্থার ভোটেই। আপাতত অপেক্ষা সেই দিনের।





