আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

নন্দীগ্রামে ৪ হাজার ভোটের ‘খবর’ পৌঁছয়নি মমতার কাছে! পাঁচ বছর পর উপনির্বাচনে সামনে পুরনো কাহিনি

Published on: September 27, 2026
---Advertisement---

নন্দীগ্রাম, ২৭ সেপ্টেম্বরঃ ২০২১-এর ১৮ জানুয়ারি। নন্দীগ্রামের তেখালির মঞ্চে তখন উপচে পড়া ভিড়। সেই জমায়েত দেখে আবেগাপ্লুত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে ডেকে নিয়েছিলেন তৎকালীন তৃণমূল রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে। সেখানেই ঘোষণা নন্দীগ্রাম থেকেই বিধানসভা ভোটে লড়বেন তিনি। তার পরের কাহিনি বাংলার রাজনীতিতে বহুচর্চিত। শুভেন্দু অধিকারীর কাছে প্রায় ২ হাজার ভোটে পরাজয়, ফল নিয়ে মমতার আপত্তি, আর নন্দীগ্রামকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।

কাট টু ২০২৬। নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। ১৯ বছর আগের একটি মামলায় তিনি জেলবন্দি। আর এই আবহেই প্রকাশ্যে এসেছে একুশের ভোটের আগে নন্দীগ্রামকে ঘিরে অন্য এক কাহিনি মমতার সমর্থনে প্রায় চার হাজার ভোট জোগাড়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এই মিলনই। কিন্তু সেই বার্তা নাকি পৌঁছয়নি তৃণমূলনেত্রীর কাছে।

মিলন প্রধানের দাবি, আদি কংগ্রেসি ঘরানার মানুষ হিসেবে নন্দীগ্রামে দীর্ঘদিনের তাঁর সংগঠনের ভোট মমতার দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। মমতা নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করার পর অন্তত চার হাজার ভোট তাঁর পক্ষে আনার দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই বার্তা কালীঘাটে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টাও হয়েছিল বলে দাবি।

একুশের নির্বাচনে অবশ্য নন্দীগ্রাম আসন বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোটের ভাগে গিয়ে সিপিএমের দখলে যায়। প্রার্থী হন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। আর তৃণমূলের হয়ে মমতার বিরুদ্ধে লড়েন শুভেন্দু। কমিশনের ফল অনুযায়ী, শুভেন্দু পান ১ লক্ষ ১০ হাজারের বেশি ভোট, মমতা পান প্রায় ১ লক্ষ ৮ হাজার ভোট। ব্যবধান ছিল প্রায় ২ হাজার। মমতা অবশ্য ফল মেনে নেননি; তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁকে প্রায় চার হাজার ভোটে জিতেও ফল বদলে দেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ অবশ্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাহলে সেই চার হাজার ভোটের সম্ভাব্য সমর্থনের খবর কোথায় হারাল?

তৃণমূলের একাংশের দাবি, দলের অভ্যন্তরেই নন্দীগ্রামে ‘ষড়যন্ত্র’ হয়েছিল এবং সমর্থনের বার্তা শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছয়নি। সদ্য কংগ্রেসে যোগ দেওয়া মানিক ফকিরও দাবি করেছেন, কালীঘাট ও নবান্ন দুই জায়গাতেই খবর পৌঁছনোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। মন্ত্রী, সাংসদ এবং এক আইপিএস আধিকারিকের মাধ্যমেও বার্তা পাঠানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে তাঁর দাবি।

সত্যিই সেই বার্তা পৌঁছলে ফল বদলাত কি না, তা অবশ্য ইতিহাসের অমীমাংসিত প্রশ্ন। কিন্তু ২০২৬-এর উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামের সেই পুরনো ‘চার হাজার ভোট’-এর কাহিনি ফের সামনে আসায় একুশের সেই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের অন্দরমহল নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment