খবরিয়া ২৪ ডেস্ক: লিওনেল মেসির ‘গোট ট্যুর’ ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে চরম বিশৃঙ্খলার ছবি সামনে এসেছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। ওই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্তের বাড়িতে এবার অভিযান চালাল পুলিশ। শুক্রবার সকালে মহিলা পুলিশকর্মী-সহ মোট পাঁচজন আধিকারিক রিষড়ার বাঙুর পার্ক এলাকায় অবস্থিত শতদ্রুর বিলাসবহুল বাড়িতে যান। তিনতলা ওই বাড়িতে সুইমিং পুল ও ফুটবল মাঠ থাকার খবর সামনে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে বাড়িতে পরিচারিকা ছাড়া আর কেউ নেই। শতদ্রুর স্ত্রী ও সন্তান সেখানে থাকেন না। স্থানীয় থানার সহায়তায় তদন্তকারীরা বাড়িতে প্রবেশ করে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালান। যুবভারতী কাণ্ডে আর্থিক লেনদেন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি সংক্রান্ত কোনও তথ্য মেলে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই তল্লাশি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যেই শুক্রবার সকালেই ওই মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট।
উল্লেখ্য, মেসির কলকাতা সফর ঘিরে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে বিধাননগর পুলিশ। সরকারি কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট ও হিংসার অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আটটি ধারা, এমপিও আইন এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ আইন-সহ মোট ১০টি ধারায় মামলা দায়ের হয়। এই মামলায় বিমানবন্দর থেকেই গ্রেফতার করা হয় শতদ্রু দত্তকে। আদালতে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। যদিও গোটা ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মেসি ট্যুরের বিশৃঙ্খলা নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির প্রধান করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়কে। পাশাপাশি ডিজিপি রাজীব কুমার, বিধাননগরের সিপি মুকেশ কুমার এবং ক্রীড়া দফতরের প্রধান সচিব রাজেশ কুমার সিনহাকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ ডিসেম্বর সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির উপস্থিতিকে ঘিরে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। প্রায় ২০ মিনিট মাঠে থাকার সময় মেসিকে ঘিরে থাকেন প্রায় ৮০ জন। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস-সহ বহু ভিআইপি ও পুলিশ আধিকারিকের ভিড়ের জেরে টিকিট কাটা সাধারণ দর্শকরা মেসিকে দেখতে পাননি। ক্ষুব্ধ দর্শকরা ‘বু’ করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় গ্যালারি থেকে ছোড়া হয় বোতল, ভাঙচুর হয় সিট ও ফ্লেক্স, এমনকি ভিআইপি চেয়ারে আগুন ধরানো হয়। শেষে মেসিকে টানেল দিয়ে দ্রুত মাঠ ছাড়তে হয়। এই ঘটনার জেরে আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।





