বাঁকুড়া, ৩০ ডিসেম্বরঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় রাজ্যে ৫০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ। শুরু হয়েছে শুনানি পর্ব, আর এই প্রক্রিয়ায় আরও বহু মানুষের নাম বাদ যেতে পারে এই আশঙ্কা প্রকাশ করেই মঙ্গলবার বাঁকুড়ার বড়জোড়ার সভা থেকে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে নির্বাচন কমিশনের ডিআইজি (তথ্যপ্রযুক্তি) সীমা খান্নাকে নিশানা করে কড়া আক্রমণ শানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “দিল্লিতে কমিশনের ভেতরে বিজেপির আইটি সেলের লোক বসে রয়েছে। ইআরওদের নামে মিথ্যে কথা বলে এআই ব্যবহার করে ৫৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, ইআরও অ্যাসোসিয়েশন লিখিতভাবে জানিয়েছে যে তারা এই নাম বাদ দেওয়ার কাজ করেনি। তা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর আগেও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সীমা খান্নার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, কমিশনের অ্যাপ ব্যবহার করে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনিই মূল ‘কলকাঠি’ নাড়ছেন। এবার সেই অভিযোগের সুরেই বড়জোড়ার সভা থেকে মমতা বলেন, “দিল্লিতে বসে ইআরওদের নাম করে মিথ্যে বলা হচ্ছে। এগুলো ছেড়ে দেবেন না। ভোটার তালিকায় নাম তোলা আপনাদের সাংবিধানিক অধিকার।”
নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী ৭ ও ৮ নম্বর ফর্ম পূরণ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “৫৪ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গেছে। তারা ফর্ম ফিলআপ করবেন, এটাই আপনাদের অধিকার।” উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “কারও পদবি সিংহ, ইংরেজিতে সেটা সিনহা হয়েছে এই কারণেও নাম বাদ গেছে।”
এদিন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দোস্তিদারের সন্তানদের হিয়ারিংয়ে ডাকার ঘটনাতেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিএলএদের হিয়ারিং রুমে ঢুকতে না দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কমিশনের উদ্দেশে মমতা বলেন, “কোন আইনে এই নির্দেশ? লিখিত নির্দেশিকা দিন। হোয়াটসঅ্যাপের কোনও আইনি মূল্য নেই। দরকার হলে আমি আদালতে যাব, জনতার আদালতেও যাব।”





