শীতলকুচি, ৩১ জুলাইঃ কোচবিহারের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্বাধীন কোচবিহার রাজ্যের শেষ রাজস্বমন্ত্রী খান আমানতুল্লাহ চৌধুরীর বসতবাড়ি। দীর্ঘদিনের অবহেলায় ভগ্নপ্রায় সেই ঐতিহাসিক বাড়ি শুক্রবার পরিদর্শন করলেন শীতলকুচি বিধানসভার বিধায়ক সাবিত্রী বর্মন। তাঁর এই সফরকে ঘিরে ফের জোরালো হয়েছে বাড়িটি সংরক্ষণের দাবি।
শীতলকুচি ব্লকের লালবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় মরিচা এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক বাড়িতে পৌঁছে বিধায়ক গোটা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি বাড়ির পাশের ঐতিহাসিক পুকুরও পরিদর্শন করে বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বাড়িটির সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।
খান আমানতুল্লাহ চৌধুরী স্বাধীন কোচবিহার রাজ্যের শেষ রাজস্বমন্ত্রী ছিলেন। রাজনৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি কোচবিহারের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন। তাঁর লেখা একাধিক গ্রন্থ আজও ইতিহাস গবেষণার মূল্যবান তথ্যসূত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
বর্তমানে তাঁর বসতবাড়িটি দীর্ঘদিনের অবহেলায় জরাজীর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে বাড়িটিকে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কোচবিহারের সমৃদ্ধ অতীত সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে এটি জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।
এদিন বিধায়কের সঙ্গে ছিলেন বিজেপির মণ্ডল সভাপতি পুলিন বর্মন, শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ খোরশেদ মিয়া, মণ্ডল সম্পাদক ভবেশচন্দ্র বর্মন, দেবাশীষ দত্ত-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব ও কর্মীরা। পরিদর্শনের পর এলাকাবাসীর আশা, বহুদিনের দাবি মেনে ঐতিহাসিক এই বাড়ির সংরক্ষণে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। কোচবিহারের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ স্মারককে বাঁচিয়ে রাখার দাবিই এখন সবচেয়ে জোরালো।





