শিলিগুড়ি ৭ ডিসেম্বর: শনিবার গভীর রাতে সেবক রোডের পায়েল মোড় এলাকায় ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতে আচমকাই হামলা চালাতে শুরু করেন এক যুবতী। স্থানীয়দের দাবি, ওই যুবতী তখন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন এবং আচরণও ছিল সম্পূর্ণ অসংলগ্ন। তাঁর এমন তাণ্ডবের জেরে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিকল হয়ে যায় সেবক রোডের যান চলাচল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাত দেড়টা নাগাদ ওই যুবতী হঠাৎই একটি ব্যক্তিগত গাড়ির দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। প্রথমে হাত দিয়ে ধাক্কা দেওয়া, পরে জানলার কাঁচে আঘাত ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এরপর আচমকাই তিনি গাড়ির বোনেটে উঠে চিৎকার-চেঁচামেচি করতে থাকেন। তাঁকে থামাতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দিকেই উল্টে তেড়ে যান তিনি। কিছুক্ষণ পর রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে হাউমাউ করে কান্নাকাটি শুরু করেন যুবতী। সেই সময় তাঁকে বারবার একটি নির্দিষ্ট যুবকের নাম ধরে ডাকতে শোনা যায়। দাবি করেন, দীর্ঘদিনের সম্পর্কে নাকি বারবার প্রতারণা ও মানসিক হেনস্থার শিকার হয়েছেন তিনি। আরও অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পুলিশের দ্বারস্থ হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয়রা তাঁর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কারণ তখন তিনি স্পষ্টই নেশাগ্রস্ত ও অস্থির ছিলেন। এই বিশৃঙ্খলার জেরে সেবক রোডে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। গাড়ির লম্বা লাইন পায়েল মোড় থেকে আশেপাশের একাধিক রাস্তায় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। পথচলতি মানুষ ও গাড়িচালকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। খবর পেয়ে পানিট্যাংকি ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে মহিলা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যুবতীকে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, যুবতীর আচরণ অত্যন্ত অস্বাভাবিক ছিল এবং তিনি একাধিকবার আত্মঘাতী মন্তব্যও করেছেন। সেই কারণে তাঁকে আপাতত সুরক্ষিত হেফাজতে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির পেছনের বাস্তব কারণ ও যুবতীর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। প্রেমঘটিত বিবাদের জেরে এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি হল দাবি করলেও, তদন্তের পরেই পরিষ্কার হবে আসল কারণ।
প্রায় এক ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার পরে স্বাভাবিক হয় সেবক রোডের যান চলাচল। তবে রাতের এই ঘটনা ঘিরে এখনও সরগরম শিলিগুড়ি শহর।





