কলকাতা, ২ জুলাই: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উদ্দেশে খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন দুই দেশের ১১৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের ৬১ জন এবং পাকিস্তানের ৫৬ জন নাগরিক। ভারতীয় স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় রয়েছেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরও।
চিঠিতে দুই দেশের সরকারের কাছে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করা, কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ধারাবাহিক পদক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে। স্বাক্ষরকারীদের দাবি, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের ফলে দুই দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বাণিজ্য এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
চিঠিতে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদে পুনরায় হাই কমিশনার নিয়োগ, স্বাভাবিক ভিসা পরিষেবা চালু, বাণিজ্যিক উড়ানের জন্য আকাশসীমা খুলে দেওয়া, আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত ও বাণিজ্য পুনরায় শুরু এবং শ্রীনগর-মুজাফফরাবাদ বাস পরিষেবা ফের চালুর মতো একাধিক প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর বলেন, তিনি দেশের স্বার্থে শান্তির পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমি কোনও দিন ভারতের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলিনি। দেশের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছি। ফারুক আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতি-সহ ৬১ জন ভারতীয় এই চিঠিতে সই করেছেন। সংঘর্ষ হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন দুই দেশের সাধারণ মানুষ ও সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। সেই কারণেই শান্তির আবেদন জানিয়েছি।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত তীব্র আকার নেয়। পরবর্তীতে সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হলেও দুই দেশের সম্পর্ক এখনও স্বাভাবিক হয়নি। সেই আবহেই দুই দেশের বিশিষ্টজনদের এই যৌথ শান্তি-উদ্যোগ নতুন করে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।





