শীতলকুচি, ২৭ ফেব্রুয়ারি : দু’মুঠো রোজগারের আশায় ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিল বছর উনিশের তরতাজা যুবক মিন্টু বর্মন। কিন্তু জীবনের কঠিন লড়াইয়ের ময়দান থেকে আর ফেরা হলো না তার। অগ্নিদগ্ধ হয়ে কেরালায় মর্মান্তিক মৃত্যুর পর আজ তার নিথর দেহ ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়ল শীতলকুচির খলিসামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সাঙ্গার বাড়ি এলাকা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মিন্টুর বয়স আনুমানিক ১৯ বছর। এত অল্প বয়সেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিল সে। এক দিদি ও এক বোনের বিয়েতে যথেষ্ট অর্থ ব্যয় হওয়ায় পরিবার আর্থিকভাবে চাপে পড়ে। বাড়িতে তেমন কৃষি জমি নেই। বাবা-মাও ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালান। সেই পরিস্থিতিতেই কয়েক মাস আগে মিন্টু কাজের সন্ধানে পাড়ি দেয় দক্ষিণের রাজ্য কেরালা-এ।
গত কয়েকদিন আগে যেখানে সে কাজ করত, সেখানেই রান্না করার সময় আচমকাই অগ্নিদগ্ধ হয় মিন্টু। স্থানীয়ভাবে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অবশেষে আজ তার দেহ ফিরিয়ে আনা হয় নিজ গ্রামে।নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন মা-বাবা ও স্বজনরা।
প্রতিবেশীদের চোখেও জল, যে ছেলেটি সংসার বাঁচাতে ঘর ছেড়েছিল, সে-ই আজ নিথর হয়ে ফিরল। গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।রোজগারের তাগিদে বাড়ি ছাড়া এক তরতাজা প্রাণের এমন পরিণতি যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে কত স্বপ্ন যে মাঝপথেই নিভে যায়। মিন্টু আর ফিরবে না জীবন্ত অবস্থায়, কিন্তু তার অসমাপ্ত স্বপ্ন আর পরিবারের হাহাকার দীর্ঘদিন তাড়া করে বেড়াবে সাঙ্গার বাড়ি এলাকাকে।





