আসানসোল, ৩০ অক্টোবর: পরকীয়া সম্পর্কের সন্দেহ ঘিরে বচসা। তার জেরেই দিল্লি থেকে আসানসোলে আসা এক যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। পশ্চিম বর্ধমানের সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুরের হিন্দুস্তান কেবলস ওল্ড কলোনির এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম অশোক কুমার সিং ওরফে ভিকি। ঘটনায় ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত মন্টু যাদব-সহ আরও কয়েক জনের খোঁজ চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকের পরিবারের বাস দিল্লিতে। মাঝেমধ্যেই তিনি রূপনারায়ণপুরের হিন্দুস্তান কেবলস ওল্ড কলোনিতে আসতেন। সেখানে একটি কোয়ার্টারে থাকেন মন্টু যাদব। অভিযোগ, মন্টুর স্ত্রীর সঙ্গে অশোকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্ত্রীর উপর সন্দেহ করতেন মন্টু। সেই সন্দেহকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই তাঁদের মধ্যে অশান্তি চলছিল বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফের মন্টুর কোয়ার্টারে যান অশোক। তাঁকে সেখানে দেখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে অশোকের সঙ্গে মন্টুর বচসা শুরু হয়। এর পরেই অশোককে কোয়ার্টারের ভিতরে আটকে রেখে মন্টু ও তাঁর কয়েক জন সহযোগী বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ।
চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় অশোককে উদ্ধার করে প্রথমে পিঠাকেয়ারী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আসানসোল জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই মৃত্যু হয় ওই যুবকের।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশ। তদন্তে নেমে সুরেন্দ্র যাদব ও দীপক যাদব নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মূল অভিযুক্ত মন্টু যাদব-সহ আরও কয়েক জন ঘটনার পর থেকে পলাতক বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। পাশাপাশি মন্টুর স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। অশোকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার ধৃত দু’জনকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়েছে।





