ঝাড়গ্রাম, ৩০ অক্টোবরঃ সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে বেকার যুবকের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরেও মেলেনি চাকরি, ফেরত আসেনি টাকাও। উল্টে টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে জুটেছে প্রাণনাশের হুমকি। এমনই অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূল নেতা অজিত মাহাতো। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করার কথা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত ঝাড়গ্রামের বাছুরডোবা এলাকার বাসিন্দা সজল দাসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তাঁর অভিযোগ, নিজের রাজনৈতিক প্রভাব এবং রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা বলে বন দফতরে স্থায়ী সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন অজিত। সেই প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করেই ধাপে ধাপে টাকা দিতে শুরু করেন সজল।
অভিযোগ, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে মোট চার দফায় ১০ লক্ষ টাকা অভিযুক্তের হাতে তুলে দেন তিনি। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও চাকরির কোনও ব্যবস্থা হয়নি। প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় একসময় নিজের দেওয়া টাকা ফেরত চান সজল। অভিযোগ, তাতেও কোনও সুরাহা হয়নি।
বরং টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগকারীর দাবি, টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, আগের টাকা ফেরত না দিয়েই আরও ২ লক্ষ টাকা দাবি করেন অজিত। একই কায়দায় সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আরও কয়েক জন বেকার যুবকের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সজল।
এর পরেই বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অজিত মাহাতোকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই ঘটনায় আরও কোনও ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন কি না, চাকরির প্রতিশ্রুতির নামে একই ধরনের প্রতারণা অন্যত্রও করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় এবং সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগের দাবির সত্যতাও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
সরকারি চাকরির আশায় বেকার যুবকদের প্রতারণার অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে চাকরির নামে আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়ে। তবে অভিযোগের সত্যতা এবং এই ঘটনায় অন্য কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।





