কলকাতা, ৩০ অক্টোবরঃ পুজোর পাস দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। এ বার সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন দলের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রীরামপুরের সাংসদের নিশানায় দলেরই একাধিক নেতা। ববি হাকিম, অরূপ বিশ্বাস এবং ইন্দ্রনীল সেনের নাম করে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘দিদির আশীর্বাদে এঁরা সবাই নায়ক। আমরা তো ভিলেন হয়েই রয়ে গিয়েছি।’’ একই সঙ্গে তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলেই দুর্নীতির প্রবণতা বাড়ে। তাঁর কথায়, অতি ক্ষমতাই দুর্নীতির মূল কারণ।
সাংবাদিক বৈঠকে কল্যাণ বুঝিয়ে দেন, রাজনীতিতে তাঁর অবস্থানের পিছনে ক্ষমতার লোভ নয়, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ভালোবাসাই প্রধান কারণ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কিছু মানুষ ক্ষমতাকে ভালোবাসেন। কিন্তু তাঁর মতো অনেকেই দল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভালোবেসে রাজনীতি করে চলেছেন। তৃণমূলের মধ্যে এমন লক্ষ লক্ষ কর্মী রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এখন রাজনীতিতে আদর্শের বদলে ব্যবসায়িক মানসিকতা নিয়ে অনেকে আসছেন।
দলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কল্যাণ। কাজল শেখের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার কথা বলার পরেই তাঁর নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে দলের ভিতরে আনুগত্যের মূল্য এবং নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন সাংসদ।
তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন দুর্নীতি প্রসঙ্গে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে একা দায়ী করতে নারাজ কল্যাণ। তাঁর বক্তব্য, ‘‘পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে একা দায়ী করলে হবে না। আরও অনেকে পরপর আছে।’’ এখানেই থেমে না থেকে তাঁর পরামর্শ, কোনও রাজনৈতিক দলেরই পাঁচ থেকে দশ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে দুর্নীতির প্রবণতা বাড়ে বলে মনে করেন তিনি।
কল্যাণের কথায়, এই ধরনের অভিযোগে দলের ভাবমূর্তি দুর্বল হচ্ছে। সৎভাবে রাজনীতি করতে চাওয়া কর্মীদের কাছেও পরিস্থিতি বেদনাদায়ক হয়ে উঠছে।
ইন্দ্রনীলের গ্রেপ্তারির আবহে দলের অন্দরেই এমন প্রকাশ্য সমালোচনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে দুর্নীতির অভিযোগ এবং ক্ষমতার রাজনীতি নিয়ে তৃণমূলের ভিতরে কি জমছে অসন্তোষ? কল্যাণের মন্তব্যে সেই জল্পনাই আরও জোরালো হল।





