খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৮ জানুয়ারিঃ আগামিকাল, বৃহস্পতিবারই দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সূত্রের খবর ছিল, দিল্লির নির্বাচন সদনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। তবে শেষ মুহূর্তে সেই সফর আপাতত একদিন পিছিয়ে গেল। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি, সোমবার বিকেল ৪টেয় দিল্লির নির্বাচন সদনে মুখ্যমন্ত্রীকে সময় দেওয়া হয়েছে। যদিও ওই দিন তিনি যাবেন কি না, তা সরকারিভাবে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
বুধবার সিঙ্গুরে সভা সেরে সেখান থেকেই দিল্লি রওনা দেওয়ার কথা ছিল মমতার। কিন্তু সকালে এনসিপি নেতা তথা মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর পেয়ে সফর পিছোনোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই শোকের আবহেই দিল্লি যাত্রা স্থগিত রাখা হয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রের দাবি।
সিঙ্গুরের সভা থেকে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রকে এক বন্ধনীতে রেখে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সাফ কথা, “আজ না হলে কাল আমি দিল্লি যাবই। দরকার হলে কোর্টেও যাব আইনজীবী হিসেবে নয়, সাধারণ মানুষ হিসেবে। সব নথি রেখে দিয়েছি। জ্যান্ত মানুষকে মৃত বানানো হচ্ছে।” এসআইআর (SIR) ইস্যুতে বাংলার কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়লে তিনি চুপ করে থাকবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন মমতা।
নাটকীয় ভঙ্গিতে তাঁর মন্তব্য, “আমাকে তোমরা ঘেঁচু করবে। জেলে ভরো, গুলি করো আই ডোন্ট কেয়ার! আমি সব কিছুর জন্য তৈরি।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে এবং ‘শুনানি’-র প্রক্রিয়াতেই বহু নাগরিক সমস্যার মুখে পড়ছেন।
তৃণমূল সূত্রের দাবি, দিল্লি সফরে মমতা একা নন, প্রতিনিধি দল নিয়ে যেতে চান তিনি। সেই দলে কমিশনের চোখে ‘মৃত’ ঘোষিত ভোটারদের পরিবারের সদস্যরাও থাকতে পারেন। এর আগেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিনিধি দল নিয়ে দিল্লি গিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সব মিলিয়ে এসআইআর আবহে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর ঘিরে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে কৌতূহল তুঙ্গে।





