কলকাতা, ৯ আগস্টঃ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এ বার জনরোষের মুখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে রবিবার হালিশহরে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তিনি। মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে জল ও কাদা ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। জুতোও ছোড়া হয় বলে দাবি। সেই সঙ্গে ওঠে ‘চোর-ডাকাতরানি’ স্লোগান।
ঘটনার সূত্রপাত কাঁচরাপাড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিরজু কুমারের মৃত্যু ঘিরে। শুক্রবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, এলাকায় তোলাবাজি ও মারামারির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বিরজু তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পরিবারের দাবি, গ্রেফতারের পর তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়েছিল। সন্ধ্যায় তাঁর স্ত্রী জেলেও দেখা করতে গিয়েছিলেন। তখন তিনি সুস্থ ছিলেন বলেই পরিবারের বক্তব্য। কিন্তু হালিশহর থানার পুলিশের দাবি, শুক্রবার ভোররাতে লকআপে তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে কল্যাণীর জহরলাল নেহেরু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের আরও অভিযোগ, বিরজুর শরীরের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে হাত-পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। সকালে হাসপাতালেই তাঁর দেহ রেখে পুলিশ চলে যায় বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার।
এই পরিস্থিতিতে রবিবার দুপুরে নিহত কর্মীর বাড়িতে যান মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন এবং উপাসনা চৌধুরী। কিন্তু এলাকায় পৌঁছতেই বিক্ষোভের মুখে পড়ে তাঁর কনভয়। গাড়ি লক্ষ্য করে জল-কাদা ছোড়ার পাশাপাশি জুতো ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।
বিক্ষোভের মধ্যেও নিহত কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন মমতা। পরে ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, বাংলায় গুন্ডাদের দাপট বাড়ছে। তাঁর দাবি, তাঁর গাড়িতে ইট মারা হয়েছে এবং গাড়ির ক্ষতি করা হয়েছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হামলা বলে অভিযোগ করেন। পাশাপাশি পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।
এক দিকে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন, অন্য দিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে বিক্ষোভ হালিশহরের ঘটনা রাজ্যের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল।





