শ্রীরামপুর, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ হাই কোর্টের নির্দেশে শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে সভা। তার আগেই কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগে উত্তপ্ত উত্তরপাড়া। সেই আবহেই রুট বদলে ডানকুনি হয়ে দিল্লি রোড ধরে সভাস্থলের দিকে এগোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কুণালের গাড়িতে হামলার অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল বিজেপিকে নিশানা করলেও, বিজেপি তা অস্বীকার করে পাল্টা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ তুলেছে।
শনিবার দুপুরে শ্রীরামপুরের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ার সখের বাজার এলাকায় কুণালের গাড়ি ঘিরে হামলা হয় বলে অভিযোগ। পাথর, রড এবং ডিম ছোড়ার পাশাপাশি গাড়ির কাচ ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। কুণালের দাবি, তাঁকে সভাস্থলে পৌঁছতে না দেওয়ার উদ্দেশ্যেই হামলা। ঘটনার পর তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে ভবানী ভবনে যান। সেখানে নিজের ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি দেখাতে চেয়েছিলেন বলে জানান বিধায়ক। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তোলেন তিনি।
অন্য দিকে, মমতা তখন কলকাতা থেকে শ্রীরামপুরের পথে। উত্তরপাড়া হয়ে না গিয়ে ডানকুনি দিয়ে দিল্লি রোডের রুট নেন তিনি। তাঁর গাড়ির পাশে ছিল পুলিশের গাড়িও। শেষ পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সভাস্থলে পৌঁছন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
উত্তরপাড়ায় পরিস্থিতি যাতে আর না ঘোরে, তার জন্য সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে কুণালের গাড়িতে হামলার অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি নিরাপত্তাও হয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।
ঘটনার পর মমতা অভিযোগ করেন, তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের সভায় আসার পথে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর নিশানায় বিজেপি এবং পুলিশ প্রশাসন। যদিও বিজেপির সাংসদ রাহুল সিংহের দাবি, ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও যোগ নেই। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থেকেই এই ঘটনা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরও একই সুরে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ তুলেছে।
এ দিকে, হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে বিকেল ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত সভা হওয়ার কথা। সর্বোচ্চ এক হাজার মানুষের জমায়েত, জিটি রোডে মিছিল বা অবরোধ না করা এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য না দেওয়ার মতো শর্ত রয়েছে।





