নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের পর স্বাভাবিক ভাবেই নজর ছিল বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়ার দিকে। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল বাড়িয়ে বাজেটের পর দীর্ঘ সময় একেবারেই নীরব থাকলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তিনি নন, তাঁর ঘনিষ্ঠ বলয়ে থাকা শীর্ষ নেতাদেরও এ দিন প্রকাশ্যে বিশেষ মুখ খুলতে দেখা যায়নি। সেই আবহেই বিধানসভায় বাজেট নিয়ে প্রথম প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কার্যত বিরোধী রাজনীতির ময়দানে নিজেদের উপস্থিতি জাহির করল ‘আসল তৃণমূল’। দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, অন্ধ বিরোধিতা নয়, বাজেটের ভাল-মন্দ বিচার করেই তাঁদের অবস্থান স্থির হবে।
বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই বঙ্গ রাজনীতিতে তৃণমূলের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীকে জিতে আসা একাংশ বিধায়ক আলাদা শিবির গড়ে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছেন। সেই গোষ্ঠীরই নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতিতে বিরোধী আসনে নেতৃত্বের প্রশ্নে চাপের মুখে রয়েছেন মমতা। ফলে বাজেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দিয়ে পরিস্থিতি বুঝে এগোনোর কৌশলই নিয়েছে তাঁর শিবির।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, “আমরা অন্ধ বিরোধিতা করব না। ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। চা বাগানের জন্য যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা-ও ইতিবাচক। তবে কিছু বিষয়ে আপত্তি রয়েছে, বাজেট আলোচনার দিন তা বলব।” অন্যদিকে ‘আসল তৃণমূল’-এর মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান অভিযোগ করেন, বাজেটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বরাদ্দ কমানো হয়েছে। তাঁর দাবি, আগের বারের তুলনায় সংখ্যালঘু উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ অনেকটাই কমে গিয়েছে, যা পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতি ‘বিমাতৃসুলভ আচরণ’।
সব মিলিয়ে বাজেট-পরবর্তী এই নীরবতা ও পাল্টা সক্রিয়তা রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এক দিকে বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট, অন্য দিকে তৃণমূলের অন্দরে নেতৃত্বের প্রশ্নে টানাপড়েন এই দুইয়ের মধ্যেই স্পষ্ট হচ্ছে, বাংলার বিরোধী রাজনীতির লড়াই এখন আর শুধু বিজেপি বনাম তৃণমূলের সীমায় আটকে নেই।





