নয়াদিল্লী, ২১ সেপ্টেম্বরঃ দলের নাম নেই, নেই এত দিনের পরিচিত জোড়াফুল প্রতীকও। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের বিরুদ্ধে এ বার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শোনার আর্জি জানালেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, বিষয়টি এই সপ্তাহেই শোনার চেষ্টা করা হবে।
মামলার সূত্রপাত তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে দলের দুই শিবিরের বিবাদে। নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার আপাতত বন্ধ রেখেছে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচনের আগে কমিশনের এই সিদ্ধান্তে দুই গোষ্ঠীকেই বিকল্প নাম ও প্রতীক নিয়ে ভোটে নামতে হচ্ছে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা শিবিরের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক। অন্য দিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির পেয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা। সোমবার মামলাটি আদালতে উল্লেখ করে কপিল সিব্বল বলেন, ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পরেই দলের প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান তিনি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আদালত-কক্ষের বিবরণ অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘আমরা চেষ্টা করব এই সপ্তাহে শুনানি করার। শুনানির সময়ে আপনি সওয়াল করবেন।’’
তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে এই টানাপড়েনের সূত্রপাত দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে কেন্দ্র করে। দুই গোষ্ঠীই মূল দলের পরিচয়, প্রতীক এবং সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের দাবি জানায়। সেই বিরোধের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন আপাতত পুরনো নাম ও প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, দলের বৈধ দাবিদার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপে। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের আগে মামলাটির শুনানি হওয়ায় সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। মমতা শিবিরের আবেদন আদালতে কতটা গ্রহণযোগ্য হয় এবং নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ নিয়ে শীর্ষ আদালত কী অবস্থান নেয় তার দিকেই আপাতত নজর রাজনৈতিক মহলের।





