কলকাতা, ২৯ এপ্রিলঃ রাজ্য জুড়ে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে বুধবার সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে ৭ জেলার ১৪২টি আসনে। এর মধ্যেই এক নজিরবিহীন পদক্ষেপে ভোটের দিনই বুথ পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সাধারণত ভোটের দিনে বাড়িতে থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি, তবে এবার সেই রীতি ভেঙে সকালেই রাস্তায় নামেন।
এদিন সকালেই কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছন চেতলার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম-এর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম বসুর বাড়িতে গভীর রাতে তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।
মমতা বলেন, “আমি প্রার্থী হিসেবে সব দেখতে বেরিয়েছি, এখানে মুখ্যমন্ত্রীর কোনও প্রশ্ন নেই।” তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কর্মীদের আটক করা হচ্ছে, পোস্টার খুলে দেওয়া হচ্ছে এবং সারা রাত ধরে ‘তাণ্ডব’ চালানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “গণতন্ত্রের উৎসবে রক্ত লেগেছে। এভাবে ভোট হয় না। গুন্ডারাজ চালিয়ে ভোট লুঠ করতে চাইছে বিজেপি।”
চেতলার পর চক্রবেড়িয়াতেও যান তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখানে বুথের বাইরে বসে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ভোট পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। ফের একবার নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে আনা পর্যবেক্ষকরা থানায় গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতারের জন্য চাপ দিচ্ছেন।
এদিন ভাঙড়ের ওসি-র বিরুদ্ধেও সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের মোবাইলে কিছু ছবি দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “এভাবে কখনও শান্তিপূর্ণ ভোট হয় না, গণতন্ত্রের বারোটা বাজিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা, যিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁকে ঘিরে আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রশাসনের ভূমিকা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা যে তুঙ্গে, তা স্পষ্ট।





