কলকাতা, ২৩ জুনঃ ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফল নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। গণনা কেন্দ্রের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করে রাখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সমস্ত ইভিএম এবং ভিভিপ্যাটও সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া এই সংক্রান্ত কোনও তথ্য বা ফুটেজ মুছে ফেলা যাবে না। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানির পর এই নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী দু’মাস পর ফের মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই কেন্দ্রে প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে তাঁকে পরাজিত করেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী, যিনি এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সেই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করেই কলকাতা হাই কোর্টে নির্বাচন মামলা দায়ের করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবারের শুনানিতে মমতার হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ১২ রাউন্ড গণনা পর্যন্ত প্রায় ৭৮০০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন মমতা। এরপর জোর করে তৃণমূলের কর্মী ও এজেন্টদের গণনাকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। তার পরেই ফলাফলের মোড় ঘুরে যায় এবং বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী বিপুল ভোটে এগিয়ে যান। আদালতে কল্যাণ আরও অভিযোগ করেন, ভবানীপুরের ওই নির্বাচনে যে রিটার্নিং অফিসার দায়িত্বে ছিলেন, তিনিই ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম ভোটের সময়ও একই দায়িত্বে ছিলেন। পরে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে যুগ্মসচিব করা হয়েছে বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে মামলাকারীর তরফে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম নির্বাচনের ফলও আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। তার মধ্যেই এবার ভবানীপুরের ফলাফল নিয়েও আইনি লড়াইয়ে নামলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, পরপর দুই নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে পরাজয়ের পরও মমতার এই আইনি লড়াই বাংলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। এখন নজর, আদালতের পরবর্তী শুনানিতে কী অবস্থান নেয় নির্বাচন কমিশন এবং কী নতুন তথ্য সামনে আসে।





